ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

ট্রাইব্যুনাল নিয়ে উভয় সংকটে সরকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের প্রতিষ্ঠিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন রাজনীতিতে উভয় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাত্তরে ক্ষতিগ্রস্তরা চায় আদালতের রায় দ্রুত কার্যকর হোক। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, ইসলাম বিরোধী সরকার এ বিচারের মাধ্যমে ধার্মীকদের উপর নির্যাতন করছে। কারণে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হলে নেতৃত্বের জন্য পাল্টা আঘাতের ঝুঁকিও রয়েছে। ব্রিটেনের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ইকোনমিস্টের শনিবারের ছাপা সংখ্যায় প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে ন্যায় বিচার ও প্রতিহিংসা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, একাত্তরে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে। ট্রাইব্যুনালের বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অবশ্য আগে থেকেই ভাবা হচ্ছিল কাদের মোল্লার জেল নয়, ফাঁসিই পরিণতি হবে। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর রাজধানীতে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। জানুয়ারির আগেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। এখন প্রশ্ন হল ঐ সময়ের আগে কাদের মোল্লা বা ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীর সাজা কার্যকর করা হবে কিনা। কারণ জনমত পক্ষে ও বিপক্ষে রয়েছে। তাই এই পথচলা খুবই কঠিন। গত মে মাসে কট্টর ইসলামী দলের বিক্ষোভের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ৫০ জন নিহত হয়। ইতিমধ্যে জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে সরকারের জনপ্রিয়তা কমেছে। এ কারণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় না আসার সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের অবস্থান ভালো করার সুযোগ পেয়েছে। ক্ষমতায় আসলে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও সাজা কার্যকরের বিষয়ে কী করা হবে এ নিয়ে দলটি এখনো কিছু বলছে না। হয়তো তারা এর ইতি টানতে চাইবে।