বিরোধীদলের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলীয় জোটের ধর্মীয় অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের মতো আবারও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে ইসলাম থাকবে না, মসজিদে আজান হবে না, জানাজাও হবে না। কিন্তু গত পাঁচ বছরে তাদের এসব অভিযোগের কোনটি প্রমাণিত হয়নি। তাই এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশ পুরস্কার পায় আর বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আন্তর্জাতিক তিরস্কার নিয়ে আসে। বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হবে। তাই শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারাবাহিকতা রক্ষায় জনগণ আবারো আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করবে। কারণ দেশের কল্যাণে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল দরদ দিয়ে কাজ করে না। গতকাল শুক্রবার বিকালে গণভবনে কুমিল্লা (উত্তর), কুমিল্লা (দক্ষিণ), চট্টগ্রাম (উত্তর), চট্টগ্রাম (দক্ষিণ), চট্টগ্রাম মহানগর, পাবনা, রংপুর জেলা ও জেলাধীন থানা, উপজেলা, প্রথম শ্রেণির পৌর আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইসলামের প্রচারে আওয়ামী লীগের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামের জন্য কাজ করলে আমরাই করি। আমরাই আরবি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। উনি (খালেদা জিয়া) মিথ্যা কথা বলেই যাচ্ছেন। আর মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। কিছু মহিলাও নামিয়েছেন। তারা বিভ্রান্ত করছে। শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা জনগণকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সংশোধনী আনতে কোন ধরনের তড়িঘড়ি করা হয়নি। জনগণের কাছে গিয়ে নৌকায় ভোট চাইতে যাওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হবে। মানুষ স্বস্তি পাবে, শান্তি পাবে, সমৃদ্ধি পাবে-এটা জনগণকে গিয়ে বলতে হবে। তাদের এটাও বলতে হবে যে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সন্ত্রাস আসবে, জঙ্গিবাদ আসবে। উন্নয়ন হবে না। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে দেয়া ওয়াদার চেয়ে সরকার বেশি উন্নয়ন করেছে। আমাদের ইশতিহারে ছিল উপজেলা পর্যন্ত ডিজিটাল করা। কিন্তু বর্তমান সরকার ইউনিয়ন পর্যায়েও তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু করেছে। কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক চালু করেছে। দরিদ্র মানুষ বিনা পয়সায় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে, ওষুধ পাচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আসে দেশের উন্নয়নের জন্য। জনগণের কল্যাণ একমাত্র আওয়ামী লীগই করতে পারে। এটা কেন পারে? কারণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই এ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। যারা সৃষ্টি করে তাদেরই দরদ থাকে। উড়ে এসে যারা জুড়ে বসে তাদের দরদ থাকে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগকে দেশের জনগণ কেন ভোট দেবে? কারণ আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদ দূর করেছে, পাসের হার বেড়েছে, সাক্ষরতার হার বেড়েছে, বিনামূল্যে দরিদ্র মানুষ চিকিত্সা পাচ্ছে, দেশের সব শিক্ষার্থী বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। বিএনপি আসলে মানুষ এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। তাদের এক নেতা তো বলেই দিয়েছে, তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় আসলে কমিউনিটি ক্লিনিকে তাদের আগের সেই ছাগল প্রজেক্ট চালু করবে। জনগণের স্বাস্থ্য সেবার এসব ক্লিনিক বন্ধ করে দিবে। মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, কাজী জাফর উল্লাহ, সতীশ চন্দ্র রায়, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নূহ উল আলম লেনিন, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, মাহবুব উল আলম হানিফ, মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।