জাতীয় শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক শিখন-শেখানো পদ্ধতি প্রয়োগের সম্ভাবনা
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৮
মোঃ শাহজাহান
কন্ট্রোলার অব পাবলিকেশন্স, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, প্রাক্তন শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ, এনসিটিবি, ফোকাল পয়েন্ট,
UNICEF, NCTB
শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক শিখন-শেখানো পদ্ধতি প্রয়োগের সম্ভাবনা
জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এ মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক শিখন-শেখানো পদ্ধতি/কৌশলের উপর। এরূপ পদ্ধতি ও কৌশল অবলম্বন করে পাঠদান পরিচালিত হলে- শিক্ষার্থী জানা থেকে অজানা বিষয় জানতে উদ্বুদ্ব হয় পরিপূর্ণভাবে শিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থী সক্রিয় থাকে
পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থী নতুন জ্ঞান অর্জনে তত্পর হয় শিক্ষার্থী আগ্রহ ও আনন্দভরে শিক্ষাগ্রহণ করে। ফলে শিক্ষা স্থায়ী ও ফলপ্রসূ হয় বাস্তব জীবনে বিভিন্ন ধারণা/সূত্র/বিধি/নিয়ম কাজে লাগানোর অবকাশ সৃষ্টি হয়মূল্যবোধ ও আচরণের কাঙ্খিত পরিবর্তন ঘটে এতসব সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক শিখন-শেখানো পদ্ধতি গ্রহণ ও শ্রেণিতে প্রয়োগের উপযোগী বা সম্ভাবনাময় অনেকগুলো দিক সন্নিবেশিত হয়েছে। শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক নানাবিধ পাঠদান পদ্ধতি গ্রহণ ও প্রয়োগের সম্ভাবনামূলক দিকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে-
(ক) কার্যক্রমভিত্তিক (Activity Based) পাঠ্যবইঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠ্যবই রচিত হবে কার্যক্রম-ভিত্তিক। অর্থাত্ প্রতিটি বিষয়ের পাঠ্যবই অনেকগুলো পাঠে বিভাজন হবে। প্রতিটি পাঠ-এ পাঠ্যবস্তু উপস্থাপনের মধ্যে বা শেষে শিক্ষার্থী যে জ্ঞান/ধারণা লাভ করলো তা প্রয়োগে উপযোগী কাজ সংযুক্ত থাকবে। ফলশ্রুতি শিক্ষক আলাদাভাবে পাঠ-পরিকল্পনা না করলেও যদি শ্রেণিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাঠ্যবইটি অনুযায়ী পাঠদান কাজ পরিচালনা করে তাতেই ক্লাশটি শিড়্গার্থী-কেন্দ্রীক হয়ে পড়বে। উক্ত ক্লাশে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান/ধারণা লাভের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতিতে তাদের অর্জিত জ্ঞান/ধারণা প্রয়োগের সুযোগ লাভ করবে।
(খ) পাঠ্যবইয়ের কলেবর যৌক্তিক পর্যায়ে সীমিত রাখাঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠ্যবই বিষয়বস্তুর ভারে ভারাক্রান্ত না করে বরং পরিমিতভাবে বিষয়বস্তু বিন্যসত্ম করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ফলে কোন একটি বিষয়ের আলোচনায় বাহুল্য পরিত্যাগ করে কাম্যভাবে Text রচিত হয়েছে। পাঠ্যবই এরূপ হওয়াতে তা শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক পাঠদান সহজ করেছে।
(গ) পিরিয়ড-এর ব্যাপ্তি বৃদ্ধিঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যলয়ে (এক শিফট) একটি পিরিয়ড-এর ব্যাপ্তি হবে ৫০ মিনিট। পূর্বাপেক্ষা এ ব্যাপ্তির অধিক হওয়াতে শিক্ষক শ্রেণিতে পাঠদানে অধিক সময় পাবেন। তাতে তিনি বক্তৃতা পদ্ধতি পরিহার করে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক নানাবিধ পদ্ধতি/কৌশল ব্যবহারে তত্পর হবেন।
(ঘ) ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রচলনঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে ধারাবাহিক ও সমষ্টিক এই দু’ভাগে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। পাঠদান কার্যক্রম চলাকালীন শ্রেণিকক্ষে যে মূল্যায়ন করা হয় তা হচ্ছে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Formative বা Contineous Assessment)। এ মূল্যায়ন চূড়ান্ত মূল্যায়নের পূর্ব পর্যন্ত চলতে থাকে। এ মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সবলতা ও দুর্বলতা চিহূত করে ফিডব্যাক প্রদানের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য উপযুক্ত করে গঠন করা যায়। ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে শ্রেণির কাজ, বাড়ির কাজ, ও অনুসন্ধানমূলক কাজ এবং শ্রেণি অভীক্ষা এই ০৩ (তিন) টি কোর্সওয়ার্কের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। ফলশ্রুতিতে শিক্ষক এ কোর্সওয়ার্কগুলোর পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের একক ও দলগতভাবে নানাবিধ কাজ শ্রেণিতে ও শ্রেণির বাহিরে করতে দিবেন। তাতে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক পাঠদান কাজ সফল হবে।
(ঙ)সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণঃ মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শ্রেণিতে সব কয়টি বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ তে আরোপ করা হয়েছে। এরূপ প্রশ্ন পদ্ধতিতে ভাল ফলাফল করার ক্ষেত্রে পাঠ্য বিষয়াদি বোঝার পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতিতে তা প্রয়োগ; এমনকি কোন সমগ্র বিষয়কে (Whole) উপাদানে বিভক্ত করা, সংশ্লেষণ এবং মূল্যায়নে শিক্ষার্থীকে সক্ষম হতে হবে। ড়্গেত্র বিশেষ মতামত প্রদান, নিজের মতের সপক্ষে যুক্তি প্রদান এবং অন্যের মত খন্ডনে যুক্তি উপস্থাপনে সক্ষম হতে হবে। এরূপ যোগ্যতা অর্জনে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক পাঠদান পদ্ধতি অধিক কার্যকর বিধায় শিড়্গক ও শিক্ষার্থী তা প্রয়োগে অগ্রসর হবে; এমনটা প্রত্যাশা করা যায়।
(চ)সকল শিক্ষা ধারায় অভিন্ন শিক্ষাক্রমঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুযায়ী বাংলা, ইংরেজি, গণিত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয় সাধারণ শিক্ষা, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষায় আবশ্যিক করা হয়েছে। সকল ধারার জন্য আবশ্যিক বিষয়ের প্রচলন ঘটায় তা সমানভাবে প্রয়োগের ড়্গেত্রে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রীক পাঠদান সর্বপেক্ষা উপযোগী। এরূপ বিবেচনাবোধ থেকে সকল ধরায় শিক্ষকরা শ্রেণিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ পাঠদানে প্রশ্ন-উত্তর, আলোচনা, দলগত আলোচনা, প্রদর্শন, ভূমিকাভিনয় ইত্যাদি পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহারে অগ্রসর হবেন, এমনটা প্রত্যাশা করা যায়। শেষ পর্ব আগামীকাল