ওরা চাতাল কন্যা তাই মজুরি কম!
কাউনিয়া (রংপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৪
ওঁরা নারী শ্রমিক তাই মজুরী কম, কথাটি দম্ভভরে জানান উপজেলার ৯৬টি চাল কলের মালিক ও ম্যানেজাররা। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে উপজেলার চাতালগুলোতে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি নারী শ্রমিক কাজ করে। বাস্তবে নারী শ্রমিকরা বেশি কাজ করলেও তাদের মজুরী কম।
চাতাল কন্যা জহুরা জানান, আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে দিনপ্রতি মজুরী পাই মাত্র ৬০ থেকে ৭০ টাকা। আর একই চাতালে পুরুষরা কাজ করে পায় ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা। অবহেলিত ওই চাতাল কন্যারা জানান, আমাদের আয়ে সংসার চলে না তাই আমরা ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাতে পারি না। ওঁরা সকাল থেকে কাজ শুরু করে। শেষ হয় রাত ১টা থেকে ২টায়। ঘুমহীন চোখে আবারও কাজ শুরু করে সকালবেলা। কুর্শা ইউনিয়নের চাতাল ব্যবসায়ী হোসেন আলী ও মোজাফ্ফর মিয়া জানান, বর্তমান ধানের বাজারের যে অবস্থা তাতে ওই মজুরী দিয়েই আমাদের ব্যবসা চলে না। কারন হিসাবে তারা জানান, বাজারে ধানের দাম বেশি চালের দাম কম। তাছাড়া অল্প দামে নারী শ্রমিক পাওয়া সহজতর তাই ওদের মজুরী কম। চাতাল কন্যা রেহেনা জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে চাতালে কাজ করছেন, কিন্তু তার ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। ২ ছেলেমেয়ের কাউকেই লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। মেয়ে রাহেলাকে কম বয়সে বিয়ে দিয়েছিলেন সেও এখন চাতাল শ্রমিক। রাহেলা জানান, বিয়ের ১ বছর পর তার স্বামী মমিনুল নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার পর রাহেলা আবার মায়ের কাছে ফিরে আসে এবং মা মেয়ে মিলে চাতালে কাজ করে জীবন চালাচ্ছে। তাদের দাবি, সবকিছুর দাম বেড়েছে কিন্তু তাদের মজুরী বাড়েনি। তাই পুরুষ শ্রমিকদের সাথে সাথে নারী শ্রমিকদের মজুরী বাড়ানোর দাবি জানান তারা। একই দাবি এলাকার সচেতন মহলের।