চার কিলোমিটার পাকা সড়ক না থাকায় হাজারো মানুষের দুর্ভোগ
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৪
শ্যা্মগঞ্জ-সরিস্তলা সড়কের মাত্র ৪ কিলোমিটার সড়ক পাকা না হওয়ায় গৌরীপুর ও পূর্বধলা উপজেলার ১৫/১৬টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বর্ষাকালে সড়কে বৃষ্টির পানি জমে এমনভাবে কাদার সৃষ্টি হয় দেখে মনে হবে চষা ক্ষেত। এটি সংস্কারের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এমপির কাছে দাবি জানিয়ে আসলেও কেউই তাদের দাবির প্রতি ভ্রূক্ষেপ করছে না। আর সড়কে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় অনেক পথচারী হাত-পা ভেঙ্গে পঙ্গু হচ্ছেন। পূর্বধলা উপজেলার জালশুকা কুমুদগঞ্জ বাজার থেকে গৌরীপুর উপজেলার সিধলা হাসনপুর চৌরাস্তা হয়ে আবার পূর্বধলা উপজেলার সরিস্তলা বাজার পর্যন্ত ‘শ্যামগঞ্জ-সরিস্তলা’ সড়কটির উপর এ এলাকার প্রায় ১৫/১৬টি গ্রামের লোকজন নির্ভরশীল। শুধু তাই নয়, ওই এলাকার স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরাও এ সড়কের উপর নির্ভরশীল। সর্বোপরি এলাকার কৃষকরা তাদের উত্পাদিত ধান-পাটসহ অন্যান্য পণ্য বাজারজাত করতে এ সড়ক দিয়েই বিভিন্নস্থানে প্রেরণ করে। এছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা নেই। ফলে কৃষকরা ধানসহ অন্যান্য পণ্য বাজারজাত করতে মারাত্মক অসুবিধায় পড়ছে।
সড়কটি কুমুদগঞ্জ বাজার থেকে সিধলা কাজীকুরী সেতু পর্যন্ত পাকা করা হলেও পরের অংশ সবটুকুই কাঁচা। চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে যে, যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটেই চলাচল করা অসম্ভব। কাদার গর্তে পিছলে পড়ে প্রায়ই পথচারীরা হাত-পা ভাঙ্গাসহ মারাত্মক আঘাত পেয়ে থাকে। হাসনপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ জব্বার সম্প্রতি শ্যামগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় পিছলে পড়ে গেলে তার বাম হাত ভেঙ্গে যায়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও এলাকাবাসীর ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এ সড়কের উপর নির্ভরশীল বিপুল জনগোষ্ঠির দুর্দশা লাঘবে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এমতাবস্থ্ায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ আবশ্যক।