এমডিজি অর্জনের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৮
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) অনেকগুলো ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনেরা। বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অর্জনগুলোর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তারা। অনেক স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষিতরা সামান্য ঐকিক নিয়মের অংকও পারছেন না। উচ্চ শিক্ষিত হয়েও জিডিপি প্রবৃদ্ধির বিষয়ে অনেকেই স্বল্প জ্ঞানও রাখেন না। দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে, কিন্তু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার মান এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি। এমডিজি পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচির গুণগত বাস্তবায়নসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।
গতকাল ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) আয়োজনে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর এমডিজি অর্জন ও ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে এক সংলাপের আয়োজন করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।
সিপিডি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সঞ্চালনায় পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী নীল ওয়াকার এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী এতে প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, অন্যান্য স্বল্প আয়ের দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তি অনেক কম। এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য অনেক হলেও উন্নয়ন কাজগুলো সমান্তরালভাবে এগুচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন অনেক ভালো হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেনি।
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী নীল ওয়াকার বলেছেন, এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশর অর্জন অভাবনীয়। শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসসহ প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ অনেক সাফল্য অর্জন করেছে। তবে শিক্ষার গুণগত মান অর্জনে এখনও পিছিয়ে রয়েছে।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলের উন্নয়ন ব্যয়ের অনেক অংশ খেয়ে ফেলছে সামরিক খাত। এমডিজি পরবর্তী উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং জেন্ডার সমতা আনয়নে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ড. শামসুল আলম বলেন, এমডিজি’র ২১টি লক্ষ্যের মধ্যে ইতিমধ্যে আমরা ১৩টি অর্জন করতে পেরেছি।
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ এমডিজি অর্জনে এগিয়ে চলছে।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এমডিজি অর্জনের অনেক তথ্যই ভুল। দেশের বেশির ভাগ প্রসূতির সন্তান জন্ম হচ্ছে নিজ গৃহে, ফলে মাতৃমৃত্যুসহ প্রসূতি সেবার মতো অনেক বিষয়ে প্রকৃত তথ্য উঠে আসেনি।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ অন্যান্য প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় অনেক ভালো করছে। সফল দেশগুলোর উদাহরণ গ্রহণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে।
মূল প্রবন্ধে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, স্বল্পন্নোত দেশগুলোর এমডিজি অর্জনে দক্ষ শ্রমশক্তি নিয়োগের মাধ্যমে উত্পাদন দক্ষতা বাড়াতে হবে। অন্তর্জাতিক বাধাগুলো দূর করে দেশ ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পর্যাপ্ত বৈদেশিক সহায়তাও প্রয়োজন।