গঙ্গাচড়ায় আগাম সবজি চাষ

গঙ্গাচড়ায় দিগন্ত জুড়ে আগাম শীতের সবজির সমারোহ। সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক। তাই এখানকার কৃষকরা ধান চাষের পরিবর্তে সবজি চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। পশ্চিম মান্দ্রাইন, চেংমারী ও নিলকচন্ডী গ্রাম নিয়ে চেংমারী ব্লক গঠিত। উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেংমারী ব্লকের অধিকাংশ কৃষক সবজি চাষ করেছেন। পশ্চিম মান্দ াইন এলাকার কৃষক জগদীশ চন্দ সরকার এ বছর ৩০ শতক জমিতে বাঁধাকপি, ২০ শতক জমিতে ফুলকপি, ৪০ শতক জমিতে বেগুন, ৩০ শতক জমিতে মূলা ও ৫ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি বেগুন বিক্রি করতে শুরু করেছেন। একই গ্রামের সবজি চাষি গোবিন্দ ৩৩ শতক জমিতে বাঁধাকপি ও ২০ শতক জমিতে ফুলকপি লাগিয়েছেন। চেংমারী গ্রামের কৃষক যোগেন মেম্বার, মোহিন চন্দ্র, মনসুর আলী, মনোরঞ্জন, মোহনী, ধনেশ্বর জানান, তারা সারা বছর ধরে সবজি চাষ করে থাকেন। সবজি চাষ করে তারা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন। চেংমারীর লাউ, করলা, বেগুন এখন স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রংপুর শহর ও ঢাকায় যাচ্ছে। পশ্চিম মান্দ াইন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রখর রৌদ্রে কৃষকরা সবজি ক্ষেত পরিচর্যা করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন। দম ফেলার সময় নেই। চাষিরা জানান, গত বছর তারা দাম ভাল পেয়েছেন। তবে এবছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় লাভের সম্ভাবনা কম। শ্রমিক ও কৃষি উপকরণের দাম বেশি হওয়ার কারণে খুব বেশি লাভ হচ্ছে না। আগামী ১৫/২০ দিনের মধ্যেই কপি বিক্রি করতে পারবেন। চেংমারী ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা বেগম জানান, ঐ ব্লকে ২ হাজার ২শ’ কৃষকের মধ্যে ১ হাজার ৮শ’ কৃষকই সবজি চাষি। কৃষকরা আমন ধান না করে সবজি চাষেই বেশি আগ্রহী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ বছর ৫৭৫ হেক্টর জমিতে আগাম সবজি চাষ হয়েছে। চেংমারী এলাকার মাটি বেলে দোআঁশ হওয়ার কারণে এখানকার মাটি সবজি চাষের জন্য উপযুক্ত। এ এলাকার কৃষকরা অনেক সচেতন। তারা আগাম সবজি চাষ করে তাদের অবস্থার পরিবর্তন করছেন।