পঞ্চম দিনের মতো অবরুদ্ধ উপাচার্য

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষকবৃন্দ। অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচির পঞ্চম দিন গতকাল শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেয়া হয়। ফলে এখনও মুক্ত হতে পারেননি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী। বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানসহ ৭ দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ উপাচার্যের কক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য। একই দাবিতে সাধারণ শিক্ষকদের ব্যানারে ওই স্থানে কয়েকজন শিক্ষক আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করলেও গতকাল তারা বকেয়া ৪ মাসের মধ্যে দুই মাসের বেতনের আশ্বাস পেয়ে সোমবার পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। কিন্তু শিক্ষকদের বৃহত্ অংশের সংগঠন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখায় মুক্ত হতে পারেননি উপাচার্য। এদিকে গতকালও বকেয়া বেতন প্রদানসহ চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট পাঠানোর সময় পর্যন্ত উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি সভা চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিউল আজম খান। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ মাস বেতনহীন থাকায় আমাদের মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। গত ৩ মাস থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসলেও সমস্যা সমাধানে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি উপাচার্য। এ কারণে আমাদের এমন কর্মসূচি দেয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না। তবে আমরা সমস্যা সমাধানে অনেক সময় দিয়েছি, এখন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ফেরদৌস রহমান, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ড. আবু ইকবাল রুমি শাহ, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইদুল হকসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের অন্তত ৪৫ জন সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৩৩৬। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ৬৭৪। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মে মাসে নতুন উপাচার্য যোগদান করার পর থেকেই বাজেট স্বল্পতার কারণে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।