মোল্লাহাটে রাষ্ট্রীয় খাদ্যগুদামের ৩ কোটি টাকার শস্য লোপাট
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৯
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গারফা বাজার সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা মূল্যের ৬৮৮ টন খাদ্যশস্য লোপাট হয়ে গেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এই হিসেব দিয়েছে। পুলিশ মোল্লাহাট বাজারে তল্লাশি চালিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে কাগজপত্রবিহীন ৬৫৫ বস্তা চাল ও গম উদ্ধার করেছে। তদন্ত শুরু হলে ৯ সেপ্টেম্বর গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, এলএসডি) মিলন কুমার মন্ডল গা-ঢাকা দেন।
এই ঘটনায় মোল্লাহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লায়লা আফরোজা বাদী হয়ে একমাত্র মিলন কুমার মন্ডলকে আসামি করে মোল্লাহাট থানায় বৃহস্পতিবার মামলা করেছেন। মিলন গোপালগঞ্জ জেলার সাতপার গ্রামের শম্ভুনাথ মন্ডলের ছেলে। লোপাট খাদ্যশস্যের মধ্যে রয়েছে, ৪১৯ দশমিক দশ টন চাল, ১৩২ দশমিক চল্লিশ টন গম এবং ১৩৭ দশমিক পঁচিশ টন ধান। উদ্ধার খাদ্যশস্যের মধ্যে রয়েছে ১৫০ বস্তা গম এবং ৫০৫ বস্তা চাল। মোল্লাহাট বাজারের ছয়জন খাদ্যশস্য ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে পুলিশ গত ১০ সেপ্টেম্বর এসব চাল ও গম উদ্ধার করে। তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তিনটি গুদামে পনেরটি সারিতে বা খামালে খালি বস্তা রেখে কারসাজি করা হয়েছে। বাইরে থেকে খামাল সঠিক দেখা গেলেও গণনা করার সময়ে সেখানে মাল পাওয়া যায়নি। বাগেরহাটে স্মরণকালের সর্ববৃহত্ এই খাদ্যশষ্য আত্মসাতের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তারা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিলনকে সাথে নিয়ে এসব আত্মসাত্ করেছেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: ইমদাদুর রহমান শুক্রবার এই প্রতিবেদককে বলেন, মিলন কুমার মন্ডল প্রায় চার বছর ধরে মোল্লাহাটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তাকে বাগেরহাট কার্যালয়ে বদলি করা হয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর এম.এ. জলিল নামে এক কর্মকর্তা সেখানে দায়িত্ব বুঝে নিতে গেলে মিলন কুমার মন্ডল দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় গুদামের মজুদ মেলানোর সময় মিলন কুমার মন্ডল কৌশলে পালিয়ে যান এবং আত্মগোপন করেন।
মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা বলেন, খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন কাজের সাথে আমি দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। একজন ওসি, এলএসডিকে এক স্থানে এত দীর্ঘ সময় চাকরি করার সুযোগ দেয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা যথানিয়মে স্টক মিলিয়ে না নেয়ায় এই কারচুপির সুযোগ হয়েছে।