কুমিল্লা মনোহরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় ভাংচুর আগুন, আহত ১০

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার শান্তির বাজার ও চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী বাজারে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগানের ১৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। বৃহস্পতিবার মোটরসাইকেল যোগে চিতোষী যাওয়ার পথে রাস্তায় সাইড নেয়াকে কেন্দ্র করে মনোহরগঞ্জ উপজেলার খুরুয়া গ্রামের আলাউদ্দিনের সাথে বাকবিতণ্ডা হয় শাহরাস্তি উপজেলার ট্রাক্টর চালক শহীদুল ইসলামের। একপর্যায়ে আলাউদ্দিন ও মোটরসাইকেল আরোহী রাশেদ ট্রাক্টর চালককে বেদম মারপিট করে। ট্রাক্টর চালক নিজ এলাকা চিতোষী বাজারে গিয়ে লোকজনদের জানালে পরদিন শুক্রবার আলাউদ্দিন নিজ পক্ষে ৫/৬ জন লোকসহ ব্যবসায়ীদের নিয়ে চিতোষী বাজারে নিষ্পত্তির জন্য বসে। সেখানে আলোচনার একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আলাউদ্দিন ও জহিরসহ ৫/৬ জন আহত হয়। শাহরাস্তি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। আলাউদ্দিন নিজ এলাকায় এসে মসজিদের মাইকে শান্তির বাজার এলাকার লোকজনকে চিতোষীর লোকেরা মারপিট করেছে প্রচার করলে এলাকার প্রায় দেড় হাজার লোক বাজারে একত্রিত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে দলবলে চিতোষী বাজারে হামলা চালায়। এ সময় তারা দোকানপাট ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শাহরাস্তি থানা পুলিশ ১৭ রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ শান্তির বাজারে অবস্থান নেয়। সমস্যা সমাধানে ২ থানার পুলিশ ও ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে শান্তির বাজারস্থ শফিউল্লা মেম্বারের অফিসে বসলে থানা পুলিশসহ সকলকে অবরুদ্ধ করে সেখানেও আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে হামলা চালানোর চেষ্টা হয়। সমঝোতা না হওয়ায় শাহরাস্তি থানা পুলিশ চলে গেলে হামলাকারীরা শফিউল্লা মেম্বারের বাড়িতে হামলা চালায় এবং পরে চিতোষী ব্রিজের উপর আগুন দেয়। তখন যান চলাচল বন্ধ থাকে। ছবি তুলতে গিয়ে আলাউদ্দিন ও অন্যদের হামলার শিকার হন মনোহরগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক নূরুন্নবী চৌধুরী সেলিম। তার ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেয়া হয়। শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।