জনগণকে কোন দলই গুরুত্ব দেয় না

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেছেন, একটি স্বৈরশাসন পতনের অব্যবহিত পরেই গণতন্ত্র সোজা হয়ে নাও দাঁড়াতে পারে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গেলে একটু সময়ের প্রয়োজন হয়। আমরা মুখে বলি ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’; কিন্তু কাজকর্মে জনগণকে কাছে ভিড়তে দেই না। জনগণকে কোন দলই যে ধর্তব্যের মধ্যে নেয় না, তার সহজতর প্রমাণ হলো দেশে আজও সংবিধান প্রদর্শিত পথে স্থানীয় সরকার গঠিত হয়নি। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক দিনব্যাপী একাডেমিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রয়াত অধ্যাপকের ভাইয়ের স্ত্রী বেগম মমতাজ খালেক পরিবারের পক্ষে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনীপর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, দেশের রাজনৈতিক দল শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, অনেক দল কেবল ব্যক্তিপরিচয়ে অস্তিত্বমান। গরচল ও অচল দলগুলো কেবল জোটের শরিক হিসেবে বেঁচে থাকে। সমাজে কেষ্টবিষ্টু হতে হবে, দলে থাকা বা দল করা ভালো- এমন একটা হিসেবি মন এক্ষেত্রে কাজ করেছে বলে মনে হয়। দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশে দরিদ্র দিশাহারা মানুষের কাছে রাষ্ট্র হচ্ছে বাপ-মা। সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে যেসব মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে সে লক্ষ্য আমাদের আয়ত্তের বাইরে হলেও সেটি আমাদের স্বপ্ন। এ স্বপ্নের কথা আমরা বেমালুম ভুলে গিয়ে বেসরকারিকরণের প্রমোদে মন ঢেলে দিয়েছি। নিছক মুনাফাকেন্দ্রিক শিক্ষায়তন, রোগ নিদান-নিরাময় কেন্দ্র ও যোগাযোগের ব্যবস্থাগুলো অনিয়ন্ত্রিত রেখে দিয়েছি। দেশের কেবল-মোবাইল-ইন্টারনেট প্রযুক্তি কাদের সুবিধার জন্য বেহিসাব স্বেচ্ছাধিকার ভোগ করছে? নিয়ন্ত্রণের ভার জটিল ও ব্যয়বহুল বলে অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ আমলা তার তদারকি করতে পারছে না। সরকার তার নিয়ামকের দায়িত্ব পালনে যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তা ভয়াবহ। তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতি আজ সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতিকে ছাড়িয়ে গেছে। দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের বিচার করা বড়ই কঠিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সুশিক্ষাই একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। সুশিক্ষিত, সহনশীল, উদার, দেশপ্রেমিক ও মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতি গঠন করতে পারলে সামগ্রিকভাবে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন, বেগম মমতাজ খালেক। প্রয়াত অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক রচিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খুরশিদা বেগম।