জাতিসংঘের অধিবেশন

প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন আজ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে ৮ দিনের সরকারি সফরে আজ রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ ওহিদুজ্জামান, প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি, আমির হোসেন আমু এমপি, রাশেদ খান মেনন এমপি, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি ও মইনউদ্দিন খান বাদল এমপি প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন। আজ রাত সাড়ে ৯টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী সফর সঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। আগামীকাল সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি। সেখানে তাকে স্বাগত জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত একরামুল কাদের ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগও বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে মটর শোভাযাত্রা সহকারে ম্যানহাটনের পার্ক এভিনিউস্থ গ্রান্ড হায়াত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। নিউইয়র্ক সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। নিউইয়র্ক পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেল স্যুটে সাক্ষাত্ করবেন কমনওয়েলথ মহাসচিব কমলেশ শর্মা। পরে ওয়ালডরফ এস্টোরিয়া হোটেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার দেয়া সংবর্ধনায় ও নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের দেয়া এক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ওইদিন তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ‘অসমাপ্ত কার্য সম্পাদন:এমডিজির অগ্রগতি ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি। পরে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের দেয়া মধ্যহ্ন ভোজে অংশ নেবেন। বিকালে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ‘লিডারস ডায়লগ:এইএলপিএফ-ফ্রম ভিশন টু অ্যাকশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অন্যতম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর এমডিজি অর্জনে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সাধারণ পরিষদের সভাপতির উদ্যোগে বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন। তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। পরে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বক্তব্য রাখবেন। ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। একই দিন বিকালে হিলটন হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন। এছাড়া বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও তার যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে দেশের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন। ৩০ সেপ্টেম্বর বিকালে ঢাকায় পৌঁছাবেন তিনি।