৪১ বছরেও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি দেশের প্রথম গুচ্ছগ্রাম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পশ্চিম পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ এর ১৩ ফেব্রুয়ারি রামগতির পোড়াগাছা গ্রামে আসেন। তার আগমনের বিরাট প্রাপ্তিকে স্মরণ রাখতে ৬শ একর খাস জমিতে ২১০টি নদী ভাঙ্গা পরিবারকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার যেখানে থাকবে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, পুকুর, খামার। দেশের প্রথম এই পরিপূর্ণ মডেল গ্রামটির নাম দেয়া হয় ‘গুচ্ছগ্রাম’। ১৯৭২ সালেই স্থানীয় নদী ভাঙ্গা চরগাজী ইউনিয়ন ভূঞা পাড়া সমবায় সমিতির নেতা, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এ গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। গুচ্ছগ্রামে ২১০টি গৃহ নির্মাণ, ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি মাদ্রাসা, ১টি মসজিদ, ১টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ১টি সাইক্লোন সেন্টার, ১টি গোরস্থান, ১টি মন্দির, ১টি বাজার, ১টি প্রদর্শনী খামার করার পরিকল্পনা করা হয়। একই সাথে গুচ্ছগ্রামের চার দিকে বেড়ি বাধ নির্মাণ এবং ২১টি পরিবারের জন্য ২২টি পুকুর খননের মাধ্যমে ১০টি পরিবারকে মাছ চাষ করে আত্মনির্ভরশীল করাসহ প্রতি পরিবারকে ৩০ ডিসি মেল জমিতে বাড়ি এবং ২০ ডিসি মেল খাস জমি বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। গুচ্ছগ্রাম পুনর্বাসনের জন্য নদী ভাঙ্গা কৃষকদের কৃষি সমবায় সমিতির ৩৫০ জন সদস্যের মধ্যে ২১০ জনকে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। গুচ্ছগ্রাম বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মোঃ সোহরাব উদ্দিন জানান, গুচ্ছগ্রামে ২১০ পরিবার থেকে বেড়ে এক হাজার পরিবার দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এখানে উন্নয়নের কোন ছোঁয়াই লাগেনি।