লক্ষ্মীপুরের মাটিতে মহাত্মা গান্ধী
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:১৪
দেশ ভাগের সময় সংগঠিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরপরই মহাত্মা গান্ধী এ অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন। তিনি রামগঞ্জের শ্রীরামপুর রাজবাড়ী ও কাফিলাতলী আখড়াতে অবস্থান করেন। পৃথিবীতে যে কয়জন ক্ষণজন্মা মানবসেবায় নিবেদিত ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে মহাত্মাগান্ধী এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর নোয়াখালী তথা রামগঞ্জে হিন্দু-মুসলিম এক ভয়াবহ দাঙ্গা সংঘটিত হয়। এ দাঙ্গায় লাভবান হয় কপটচারী ধর্মাবলম্বীরা। এ ধর্মান্ধদের কঠিন আষ্ঠ-পৃষ্ঠ থেকে বের করে আনার জন্য, হিন্দু-মুসলিম এক কাতারে দাঁড় করাবার জন্য সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য, সর্বোপরি মানুষের মাঝেই নিরাপদ জীবন প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর পদার্পণ ঘটে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। তিনি চষে বেড়ান রামগঞ্জে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। তিনি সুশীল সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিরলস প্রচেষ্টা চালান। তারই অংশ হিসেবে রামগঞ্জের শ্রীরামপুর রাজ বাড়ী, কাজিরখীল পন্ডিত বাড়ী, মাছিমপুর, পানিয়ালা, লামচর, করপাড়া চৌধুরী বাড়ী, চাঙ্গিরগাঁও, সোমপাড়া, জয়াগ, শাহাপুর প্রতিটি গ্রামে একটি শান্তি ক্যাম্প স্থাপন করেন এবং তথায় অবস্থান করেন ১ মাস ১৩ দিন। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ তথা বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী সশ্রদ্ধচিত্তেভরে করমচাঁদ মহাত্মাগান্ধীকে স্মরণ করে, করবে অনাদিকাল ধরে। বিবেকবান মানুষ বেঁচে থাকবে এমন ক্ষণজন্মা ব্যক্তির আদর্শ লালন করে। লক্ষ কোটি যুবসমাজ আলোকিত পৃথিবী গড়বে মহাত্মা গান্ধীর দর্শনকে ঘিরে। জয় হোক অহিংসা, সাম্য, জয় হোক বিশ্ব মানবতার কারণ আমরা সৃষ্টির, ধ্বংসের নয়। আমরা প্রগতির, আমরা দুর্গতির নয়। আমরা অশান্তির নয়, আমরা শান্তির। যার আর্দশ কেবলমাত্র এই উপমহাদেশেই লালন করে না, বরং লালিত হচ্ছে এই উপমহাদেশের গন্ডি পেরিয়ে সমগ্র বিশ্বে। তার আদর্শ, চিন্তা- চেতনা, সহমর্মিতা, সবই লালন করছে মাহাত্মা প্রেমিকগণ। তিনি রক্ষণশীল হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেও ভেদ করেছেন রক্ষণশীলতাকে। অগণিত সমাজকর্মী, রাজনীতিক কর্মী, রাষ্ট্র নায়কদের দিশার আলো দেখিয়ে সমাজ বিবর্তনের সিঁড়ি তৈরী করে দিয়েছেন।