লক্ষ্মীপুরের প্রথম শহীদ মিনার

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কী ভুলিতে পারি, স্মরণীয় এ গানটি যখন এদেশের ছাত্র জনতার মুখে ব্যাপকভাবে ধ্বনিত হয়নি-তখন শহীদ মিনার স্থাপন করা ছিল দুঃসাহসিক বিষয়। আইয়ুব শাসক গৌষ্ঠীর রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে জীবন বাজি রেখে সে সময় লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েকজন কলেজ ছাত্র ও তরুণ মিলে তত্কালীন কিছু আওয়ামী লীগ নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় ইট বালি দিয়ে লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম শহীদ মিনার স্থাপন করেন ১৯৬৯ সালে। কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে রাতের আঁঁধারে নির্মাণ করেন শহীদ মিনার। দেশ তখন বঙ্গবন্ধুর ১১ দফার আন্দোলনে উত্তাল। আর ঠিক সে সময় কিছু প্রতিবাদী ছাত্র-তরুণ ভাষা শহীদদের স্মরণে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই রাতের আধারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার তৈরী করেন। শহীদ মিনার তৈরীতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তত্কালীণ ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে পৌর শহীদ স্মৃতি একাডেমির প্রধান শিক্ষক হোসেন হায়দার ভূঁঞা, লক্ষ্মীপুর মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মনছুরুল হক, বর্তমান জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার মাষ্টার আনোয়ারুল হক, বর্তমান জাসদ নেতা সালাউদ্দিন ভূঁঞা ও নিজাম উদ্দিনসহ ২০/২৫ জন। এছাড়াও তাদের সহযোগিতা করেন লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজের তত্কালের শতাধিক ছাত্র। প্রথম শহীদ মিনার স্থাপনের অন্যতম উদ্যোক্তা হোসেন হায়দার ভূঁঞা স্মৃতিচারণ করে বলেন, শহীদ মিনার স্থাপনের ক্ষেত্রে তত্কালীণ আওয়ামী লীগ নেতা লক্ষ্মীপুর জেলার রূপকার এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর নছির আহম্মদ ভূঁঞা, এডঃ আক্তারুজ্জামান, এডঃ আহমদ উল্যা, ডাঃ আবুল বাসার সার্বিক সহযোগিতা করেন। কিন্তু বাদ সাধে তত্কালীণ কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল জব্বার। তবে তার অনুমতি ছাড়াই রাতে ডাঃ আবুল বাসার সাহেবের বাসা থেকে ইট এনে ৫/৬ ফুটের একটি পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়।