রায়পুর মত্স্য প্রজণন কেন্দ্রের উত্পাদিত পোনা বহির্বিশ্বে
জহির উদ্দিন ভূঁইয়া, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:১৬
উন্নত জাতের মত্স্য রেণু ও মত্স্য পোনা উত্পাদন ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষস্থানে আছে ‘রায়পুর মত্স্য প্রজণন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।’ রেণু ও পোনা উত্পাদনের সুনাম এবং দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজনের পদাচরণায় মুখরিত থাকে প্রজণন কেন্দ্র এলাকা। উন্নতমানের রেণু ও পোনা উত্পাদন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানের মত্স্য চাষিদের কাছে এ কেন্দ্রেটি সর্বাধিক সমাদৃত। দেশের মত্স্যচাষিদের রেণু পোনা সরবরাহের পাশাপাশি এ কেন্দ্রে উত্পাদিত পোনা মাছ এখন বহিঃবিশ্বেও সরবরাহও শুরু হয়েছে। ২০ জুলাই শ্রীলংকার রাষ্ট্রদূত সারাত কে ওয়েরাগোডা রায়পুর মত্স্য প্রজণন কেন্দ্র পরিদর্শন করে নিজ দেশে এ দেশের পোনা মাছ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ৫ আগস্ট এ কেন্দ্র হতে ৪ হাজার কাতল মাছের পোনা শ্রীলংকায় প্রেরণ করা হয়। যা থেকে ব্রুড ফিস (ডিমওয়ালা মাছ) তৈরি হবে। সরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত ২২ হেক্টর আয়তনের প্রজণন কেন্দ্রটিতে উত্পাদন শুরু হয় ১৯৮২ সনে। রায়পুর, লক্ষ্মীপুর সদর (আংশিক), রামগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, হাইমচর ও চাঁদপুর সদর (আংশিক) উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পাধীন (সিআইপি) এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ ও রেণু এবং পোনার চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে এ কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতে পরবর্তী এক দশকের মধ্যে সেচ প্রকল্প এলাকার প্রায় ২৫ হাজার পুকুরে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ সমপ্রসারণ করা হয়েছে। পুকুর মালিকরা মত্স্য চাষ বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রকল্প এলাকায় মত্স্য চাষ সমপ্রসারণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও সমপ্রসারণে সমন্বিত কার্যক্রমের একটি মডেল হিসেবে কাজ করে এটি এখন দেশের মত্স্য উত্পাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখছে। বেসরকারি ফিস হ্যাচারি মালিকদের তাদের রেণুর মান উন্নয়নে এ কেন্দ্র হতে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। প্রতি বছর হালদা ও যমুনা নদীর প্রাকৃতিকভাবে উত্পাদিত রেণু সংগ্রহ করে তা থেকে পর্যায়ক্রমে সিলেকশন প্রক্রিয়ায় উন্নতমানের ব্রুড ফিস কেন্দ্রে তৈরি করা হয়। এতে মত্স্য উত্পাদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক অন্তঃ প্রজণন সমস্যা পরিহার করা হয়। রুই, মৃগেল, কালি বাউশ, সরপুটি, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, বিগহেডসহ তেলাপিয়ার নির্ভেজাল রেনু ও পোনা উত্পাদন হয়।