আদম বেপারির কাছ থেকে টাকা ফেরত পেতে অনশন

বাড়ি-ঘর, জমি-জিরাত বিক্রি করে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে আনতে আনিসুর রহমান সুদূর বাহরাইনে পাড়ি জমান। ১০-১৫ দিন সেখানে ভালই কেটেছিল। এরপরই স্বপ্নভঙ্গ। কয়েক দিনের মধ্যেই বাহরাইনের সাইন বোর্ড সর্বস্ব এক প্রতিষ্ঠানে ভিসা পরিবর্তন করিয়ে নেয় আদম বেপারির লোকজন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তর মৌড়াইলের মৃত নাদিরুজ্জামানের পুত্র আনিসুর রহমান চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সম্পত্তি বিক্রি করে কম্পিউটার টেকনিশিয়ান পদে পুনিয়াউট মহল্লার শাহজাহান খানের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা খরচ করে বাহরাইনে যায়। সেখানে ১৫ দিনের মধ্যেই শাহজাহান খানের পুত্র আব্বাস আলী খান তারেকের নানামুখী অত্যাচার শুরু হয়। আনিসুর রহমান অভিযোগ করেন, বাহরাইনে আব্বাস আলী তার বাসায় অফিস স্থাপন করে বিভিন্ন কোম্পানীর রাবার ষ্ট্যাম্প জালিয়াতি, স্বাক্ষর জাল করা, গলাকাটা মেডিক্যাল ফিট কার্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ ও প্রতারণামূলক কাজ করে থাকে। এ কাজে তাকে বাধ্য করা হয়। প্রতিবাদ করায় তার উপর নির্যাতন চালানো হয়। ভিসা বাতিল করে দেশে পাঠিয়ে দেয়া ও বেতন স্থগিত করে দেয়। অন্যত্র কাজ করার চেষ্টা করলে ভয় দেখানো হয়। জাল-জালিয়াতির কারণে আব্বাস আলী চলতি বছরের ১৩ মার্চ আটক হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে মুক্ত হয়। কিন্তু আনিসুর রহমান এ ধরনের কাজ না করায় গত ১৬ আগস্ট দেশে চলে আসে। শনিবার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন শুরু করে আনিসুর রহমান। এ ব্যাপারে আদম বেপারি শাহজাহান খান জানান, এ ঘটনায় আমি জড়িত নই। সে বাহরাইনে গিয়ে প্রতারিত হয়ে এসেছে। এটা আমার বিষয় নয়।