তদন্ত কমিটির ডাকে ক্ষুব্ধ ক্রুইফ

বাংলাদেশ ফুটবল দল কাঠমান্ডু সাফে কেন ব্যর্থ হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজতে বাফুফের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস কমিটি’ গত কয়েকদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলছেন। যারা দলকে কাছ থেকে দেখেছেন তাদের কম-বেশি সবাই তদন্ত কমিটির সামনে অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল তদন্ত কমিটির সামনে আসতে বলা হয়েছিল ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফের মতামত জানার জন্য। কিন্তু তদন্ত কমিটির সামনে এভাবে হাজিরা দিতে হওয়ায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েছেন জাতীয় দলের কোচ ক্রুইফ। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায়ের কাছে তিনি কোনো কথাই বলতে রাজি ছিলেন না। বাদল রায় তাকে বুঝিয়েছেন ‘আমা-দেরকে দেশবাসীকে কিছু বলতে হবে। আমরা সাফের ব্যর্থতার কারণ খুঁজছি এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’ বিনয়ের সাথে কথাগুলো বুঝানোর পর নাকি ক্রুইফ কথা বলেছেন। বাফুফে ভবনে কাল দুপুরে ক্রুইফ ও তার সহকারী রেনে কেস্তার গিয়েছিলেন স্বাক্ষর দিতে। কী কথা বলেছেন ক্রুইফ? তদন্তের স্বার্থে হুবহু তথ্য প্রকাশ করতে রাজি নয় বাদল রায়। কাঠমান্ডুতে গ্রুপের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে ক্রুইফ কিছু খেলোয়াড়ের উপর আঙ্গুল তুলে বলে ছিলেন তিনি ঢাকায় গিয়ে বাফুফের কাছে নামগুলো বলবেন। কিন্তু গতকাল নাকি তদন্ত কমিটির কাছে কোনো নাম প্রকাশ করেননি। বরং অভিযোগ করেছেন, জাতীয় ফুটবল দল নিয়ে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন তা পর্যাপ্ত নয়। ক্রুইফ বিদেশি দলের সাথে ম্যাচ খেলতে চান। খেলোয়াড়দের বিছানার সমস্যা, খাওয়া-দাওয়ার সমস্যার কথা বলেছেন তিনি। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় বলছেন, ‘আমরা অনেক ফ্যাসিলিটিজ দিতে পারি না। বিদেশি দলের সাথে সে আরও ম্যাচ খেলতে চায়, সেটা যৌক্তিক। এটা একটা সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু আমাদের জন্য কঠিন বিষয়। কারণ অনেক অর্থের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এখানে।’ অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ফুটবল গঠনের কাজ করছেন ক্রুইফ। সেখানে বেশ কিছু ফুটবলার তার চোখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির কাছে। বাদল জানান, ক্রুইফ বলেছেন, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে কিছু ফুটবলার রয়েছেন যারা ইউরোপে খেলার সামর্থ্য রাখেন। তদন্ত কমিটির রুম থেকে বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলতে গিয়ে ক্রুইফ বলেছেন, ‘সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করলে আমরা সেখানে সব প্রশ্নের জবাব দিতে পারব। এখানে লুকানোর কিছু নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের ভাগ্য খারাপ ছিল। আমাদের কিছু প্লেয়ার ইনজুরিতে ছিল; বিশেষ করে মামুনুল ইসলাম ও সোহেল রানা। মোনায়েম খান রাজুকে রেজিষ্ট্রেশন করাতে পারিনি। তার উপর ভারতের বিরুদ্ধে আমরা জিততে পারিনি, ভাগ্য খারাপ ছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও ম্যাচ জিততে পারতাম। পাঁচ মিনিটে এমিলি সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি। এই দুটো ম্যাচ জিতলে আমরা ছয় পয়েন্ট পেতাম।’