জামায়াত-শিবিরের হামলা, দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
অগ্নিদগ্ধ ট্রাকচালক সামসুল মারা গেছেন
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৫
দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টা হাসপাতাল শয্যায় থেকে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ট্রাক চালক সামসুল হক। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার হরতাল চলাকালে শেরপুরে জামায়াত-শিবিরের দেয়া আগুনে তার শরীরের প্রায় ৯৫ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন ছিলেন সামসুল হক। অবশেষে গতকাল রবিবার তিনি মারা যান। একই সাথে নিঃস্ব হয়ে পড়লো ৯ সদস্যের একটি পরিবার। এদিকে গতকাল ঢাকা হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে বাস চালক নজরুল ইসলামের অবস্থাও আশংকাজনক। গতকাল থেকে নজরুলকে বার্ন ইউনিটের ২য় তলার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে যাত্রীবাহী বাস নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা নজরুল ইসলামের বাসে আগুন দেয়। এময় চালকের আসনে থাকা নজরুলের শরীরের ৬৫ ভাগ পুড়ে যায়। অপরদিকে একই অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন আরেক ট্রাক চালক সেকান্দর আলী। গতকাল রাতে তাকে আইসিইউ’তে নেয়া হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে জামায়াত-শিবিরের দেয়া আগুনে দগ্ধ হন সেকান্দার। তার শরীরের ৫২ ভাগ ঝলসে গেছে।
নিহত সামসুল হকের স্ত্রী গোলাপ বানু বলেন, জামায়াত-শিবিরের হামলায় অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর ভেবেছিলাম চিকিত্সা করে তাকে সুস্থ করে তুলবো। কিন্তু পারলাম না। তিনি বলেন, তার স্বামী ট্রাক চালক সামসুল হকই একমাত্র উপার্জনকারী। তার উপার্জনেই চলত সংসার। এখন কিভাবে সংসার চলবে ? ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন কিভাবে বাঁচবো?
নিহত সামসুলের ছোট মেয়ে শামীমা আক্তার স্বপ্নার স্বামী মেহেদী হাসান বলেন, তার শ্বশুর সামসুল হকই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ট্রাক চালিয়ে যা আয় করতেন, তাই দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলত তাদের। ঘটনার দিন হরতালে অনেকটা দারিদ্র্যের জন্যই ট্রাক নিয়ে বের হয়েছেন তিনি। আবার, ট্রাকের মালিকের পক্ষ থেকেও নির্দেশনা ছিল বুধবার সিরাজগঞ্জ থেকে সার আনতে হবে। অনেক তাড়াহুড়োর মধ্যে রওনা দেন তিনি। কিন্তু শেরপুর উপজেলার দশমাইল ঈদগাহ মাঠের সামনে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ককটেল নিক্ষেপ করলে সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। ঝলসে যায় তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ। এরপর গত দুই দিন নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে চলে তার চিকিত্সা। সামসুল হকের মেয়ে শামীমা আক্তার স্বপ্না জানান, ৩৫ বছর ধরে তাদের বাবা ট্রাক চালান।
এদিকে গতকাল ঢাকা হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে বাস চালক নজরুল ইসলামের অবস্থাও আশংকাজনক। শরীরের ৬৫ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় তার জীবন নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল থেকে নজরুলকে বার্ন ইউনিটের ২য় তলার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। হাসপাতালে একই সঙ্গে থাকা সামসুল হকের মৃত্যুর পর নজরুলের পরিবারের সদস্যরাও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন।