বুলবুল রাজশাহীর মেয়র হওয়ার পর ত্রাসের রাজত্ব চলছে

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দায়িত্ব নেয়ার পর রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াত ত্রাসের সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছে রাজশাহী ১৪ দল। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়। নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দায়ভার মেয়রকেই নিতে হবে বলেও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাজশাহী ১৪ দলের সমন্বয়ক ও রাসিকের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, সারাদেশে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবির ও তাদের দোসর বিএনপি এবং হেফাজতে ইসলাম যে নারকীয় সন্ত্রাস ও হত্যাযজ্ঞে লিপ্ত হয়েছে তাতে তারা দেশ ও রাষ্ট্রকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নতুন মেয়র দায়িত্ব গ্রহণের পরের দিনই (১৮ সেপ্টেম্বর) তার দেয়া তালিকা অনুযায়ী নিয়ম ভেঙে গ্যাস সংযোগ দিতে রাজি না হওয়ায় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা গ্যাস কোম্পানির অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে। ওই দিন ভোরে নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ কার্যালয়টি বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীরা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। পরের দিন নগরীর মির্জাপুরে ছাত্রলীগ কর্মী প্রসেনজিত্, সাদ্দাম হোসেন, নাহিদ ও সুমনের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। ২০ সেপ্টেম্বর মহিলা দলের নেতা ও সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর শামসুন্নাহারের নেতৃত্বে বিএনপির সন্ত্রাসীরা যুবলীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগ কর্মী সীমার ওপর হামলা চালায়। গত শনিবার ডাশমারী এলাকার ধরমপুরে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী নবাবের ওপর হামলা চালায় বিএনপি ও জামায়াত। একই দিন বহরমপুর সিটি বাইপাস এলাকায় ৩০টি তাজা ককটেল ও ৪ কেজি বিস্ফোরকসহ দুইজনকে আটক করে র্যাব। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরো সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মীর ইকবাল, মোহাম্মদ আলী কামাল, আলহাজ্ব রফিক উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, নওশের আলী, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী লিকু প্রমুখ।