ছুটির দিনে কেনাকাটার ধুম

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

জমে উঠেছে ঈদ বাজার। শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় ঈদের কেনাকাটার জন্য নিউ মার্কেট বসুন্ধরা সিটি, সীমান্ত স্কয়ারসহ সবগুলো শপিং মলে দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়।

সবাই ছুটছেন পছন্দের পোশাকের সন্ধানে। ভিড়ের কারণে ক্রেতার সঙ্গে বেশিক্ষণ কথা বলারও সুযোগ পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। এর মধ্যেই পছন্দের কাপড় কিনছেন ক্রেতারা। একজনের পছন্দের জামা হাত ছাড়া করতেই অন্যজন নিয়ে নিচ্ছেন।

গতকাল শুক্রবার এ চিত্র দেখা যায়। দোকানি ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজান শুরুর পর গতকাল ছিল দ্বিতীয় শুক্রবার। প্রতি রমজানে সাধারণত এ সময় থেকেই ঈদের কেনাকাটা পুরোদমে শুরু হয়। এখন থেকে দিন যতো যাবে, ভিড় ততো বাড়তে থাকবে বলে জানান বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন।

বেসরকারি কর্মকর্তা আশিক ইকবাল শুক্রবার ঈদের কেনাকাটা করতে স্ত্রীকে নিয়ে নিউ মার্কেটে আসেন। তিনি বলেন, এখন যতোটুকু দামদর করে কাপড় কেনার সুযোগ থাকছে, পরে সে সুযোগও থাকবে না। তাই ভিড় ঠেলে শপিং করতে আসা।

ধানমন্ডি হকার্সে জামদানি শাড়ি, বিভিন্ন ধরনের কাতান, বেনারশী, জুট কটন, তসর, সিল্কসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে তুলনামূলক কম দামে। শাড়ি কিনতে ধানমন্ডি হকার্সে আসা আশিক ও অনিমা বলেন, একই শাড়ি ধানমন্ডি হকার্সে যেটা ২ হাজার টাকায় কিনতে পারলাম, সেটা অন্য মার্কেটে ৫ হাজার টাকা। তাই একটু কষ্ট করে ধানমন্ডি হকার্সে আসা। অনেকে যানজট ও ভিড় এড়াতে যমুনা ফিউচার পার্কে ভিড় করেছেন। নতুন পোশাক কেনা অনেকের পক্ষে একদিনে সম্ভব হয় না। এজন্য একাধিক দিন মার্কেটে আসতে হয়। এ ক্ষেত্রে অনেকেই ছুটির দিনকে বেছে নিয়েছেন। এ পন্থা অবলম্বন করেছেন এম আলী। তিনি গত বৃহস্পতিবার রাতেই ঈদের বাজার করেছেন। শুক্রবারও বাকি কেনাকাটা করতে আসেন যমুনা ফিউচারপার্কে।

নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, মেয়েদের পোশাকের দোকানে তুলনামূলক ভিড় বেশি। তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেই বলে দিচ্ছেন, ব্যস্ততার কারণে কথা বলার মতো সময় নেই। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও দোকানিদের দাবি বেচাকেনা তুলনামূলকভাবে ভালো না। গাউছিয়া মার্কেটের বিক্রেতা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার বেচাকেনা খারাপ। মার্কেটে মানুষ আসছে, কিন্তু বেচাকেনা কম। কিনতে আসছেন একজন, কিন্তু সঙ্গে চার-পাঁচজন।

এদিকে নিউ মার্কেটের চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এ মার্কেটের এক দোকানি জানান, শুধু চন্দ্রিমা নয়, চাঁদনি চকের মতো মার্কেটেও এবার বেচাকেনা কম। মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করছে। যার প্রভাব পড়েছে মার্কেটে। চন্দ্রিমা মার্কেটের আরেক দোকানি বলেন, গত বছর ঈদের আগে প্রতিদিন ২০-৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এ বছর পাঁচ-সাত হাজার টাকার বেশি বিক্রি করতে পারিনি। জানি না কেন এমন হচ্ছে। গরমের কারণেও হতে পারে। অপরদিকে, নিউ মার্কেট ফুটপাতে চলছে হরদম বেচাকেনা। ফুটপাত বিক্রেতারা জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবার থেকে মূলত ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বেচাকেনা মোটামুটি ভালো।