এবারও সময় মতো এলেন না জাহিদ!

পর পর দু বার তারিখ মিস করার পর গতকাল অবশেষে তদন্ত কমিটির সামনে হাজিরা দিতে এলেন জাতীয় ফুটবল দলের তারকা জাহিদ হাসান। কিন্তু কালও এলেন দেরী করে। আর দেরী করে আসায় তার স্বাক্ষ গ্রহণই করেনি বাফুফের তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির সামেন বিকাল তিনটায় জাহিদের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। বিকাল সোয়া চারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে কর্মকান্ড গুছিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসেন কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায়। পঁচিশ মিনিট পর জাহিদ ফুটবল ভবনে ঢোকেন। তখন আর জাহিদের সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছিলেন না কমিটির চেয়ারম্যান। তারপরও জাহিদের অনুরোধে বাফুফের মিটিং রুমে গিয়ে তিন চার মিনিট কথা বলেন তিনি। তারপরই জাহিদও রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের পীড়াপিড়িতে কথা বলেন জাহিদ। তার মুখেও সেই একই কথা, অতিরিক্ত অনুশিলনের কারনে সাফে বাংলাদেশ দল ভালো খেলেনি। জাহিদের নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। জাহিদের সোজা উত্তর, ‘কেউ দেশের জন্য খারাপ খেলে না। সবাই যুদ্ধ করতে চায়। একটা প্লেয়ারের সমস্যা হতেই পারে।’ সাংবাদিকরা কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরলে জাহিদ আরেকটু মুখ খোলেন। কোচ ক্রুইফের সাথে তার দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। তার কারন জাহিদ যেভাবে খেলতে চায় কোচ তাকে খেলতে দেয়নি। জাহিদ বলেন, ‘আমাকে প্রেসিং করতে খেলতে বলা হয়। আমি সেটায় অভ্যস্ত হতে পারছিলাম না। আমি ফ্রি খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেয়নি।’ লেফট উইংঙ্গার জাহিদ নাকি চাচ্ছিলেন গোল মুখে বল ফেলতে। কিন্তু কোচ নাকি তাকে বলেছেন বল পাস দিতে। এই নিয়ে কোচের সাথে জাহিদের বনিবনা হয়নি। কোচ রাগ করে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ নামাননি জাহিদকে। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় জানিয়েছেন, ‘যেহেতু জাহিদ ভালো ফুটবলার। সবার মুখে তার নাম শুনেছি। তাই জাহিদের সাথে কথা বলতে চেয়ছিলাম। কিন্তু জাহিদ সময় মতো উপস্থিত হয়নি। আমরা সেভাবেই রিপোর্ট দিবো।’ বাদল রায় বলছেন, ‘একটা ভালো ফুটবলারের আচরণ করেনি সে। তার সতর্ক থাকা উচিত। যেহেতু সময় মতো আসেনি। আমরাও তার সাথে কথা বলার প্রয়োজন মনে করি না।’ জাহিদ অবশ্য বলেছেন তিনি তার গ্রামের বাড়ী টাঙ্গাইলের বাসাইল থেকে ঢাকায় আসতে গিয়ে পথে ট্রাফিক জ্যামে আটকে গিয়েছিলেন। দুপুরের খাবার না খেয়ে বাফুফে ভবনে এসেছেন। গতকাল জাতীয় দলের স্ট্রাইকার শাখাওয়াত হোসেন রনির সাথেও কথা বলেছে কমিটি। রনি সেখানে জানিয়েছেন তিনি ইনজুরির কারনে খেলতে পারেননি। সাফের ব্যর্থতা খুঁজে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস কমিটি গঠনি করেছিল বাফুফে। গতটানা ছয় দিন কোচ খেলোয়াড়, কর্মকর্তা সাংবাদিদের সাথে কথা বলেছে কমিটি। ২৬ সেপ্টেম্বর রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা রয়েছে।