আশ্রয়ের সন্ধানে রোহিঙ্গা পরিবার

নিজ দেশে নিপীড়ন-নির্যাতন ও জীবন হানি, প্রতিবেশী দেশে অনুপ্রবেশে বাধা, ধরপাকড় ও কারাবরণ এসব নিয়েই চলছে রোহিঙ্গাদের জীবন। তারপরও এসব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে একটু নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন তারা। ঘটি-বাটিসহ জীবনের শেষ সম্বল মাথায় নিয়ে নিরন্তর পথ চললেও জানে না গন্তব্য কোথায়। তারপরও সামপ্রদায়িক বিষবাষ্পের শিকার এসব মানুষ চরম নিপীড়নের মুখে তাদের প্রিয় স্বদেশভূমি ছেড়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। তাইতো উখিয়া ও তত্সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ করতে পারছে না। প্রতিনিয়ত অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আটক করে পুশব্যাক করার পরও ফাঁক-ফোকর গলিয়ে আসা রোহিঙ্গা স্বপরিবারগুলো কুতুপালং বস্তির ঝুপড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে। তাদেরকে সহযোগিতা করছে ক্যাম্প কমিটি নামধারী কতিপয় রোহিঙ্গা চাঁদাবাজ চক্র। গত রবিবার মিয়ানমারের মংডু টাউনশীপের ঢেকিবনিয়া ফকিরাবাজার গ্রাম থেকে স্বপরিবারে পালিয়ে আসা ৭ সদস্যের রোহিঙ্গা পরিবারের বয়োঃবৃদ্ধ মহিলা খদিজা বিবি জানান, নির্যাতন আর অভাব-অনটনের জ্বালা সইতে না পেরে চলে এসেছেন। সে আরো জানান, স্থানীয় আলী আকবর নামের এক দালালকে পাঁচশ’ টাকা দিলে সে ঘুমধুম পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। পরে তারা পাহাড়ী পথ ধরে এতদূর এসেছেন। ওই রোহিঙ্গা মহিলা আরো জানান, এখানে সরকারি ত্রাণসামগ্রী পাওয়া যায়। তাই ইতিপূর্বে অনেক পরিবার এখানে চলে এসেছে। তারা ভাল আছে জেনেই আমরাও ছুটে এসেছি।