মির্জাপুরে গ্রেফতার আতঙ্কে ৬০০শ’ নারী-পুরুষ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি গ্রামের ৬০০শ’ নারী-পুরুষের নামে মামলা হয়েছে। মামলার পর গ্রেফতার আতংকে গ্রামবাসীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার জামুর্কি এলাকায় গেলে পলাতক নিরীহ নারী-পুরুষ পুলিশের হয়রানির কথা বর্ণনা করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা অভিযোগ করেছে গত শুক্রবার রাতে জামুর্কি গ্রামের দিনমজুর ফন্নু মিয়ার স্ত্রী সালেহা বেগম (৩৫) রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাক চাঁপায় মারা যান। ঘটনার প্রতিবাদে এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জামুর্কি বাস স্টেশনে ওভার ব্রিজ ও গতিরোধক নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন টায়ারে আগুন দিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট নিক্ষেপ এবং ফাঁকা গুলি করে। এ সময় এক গৃহবধূ ও তার মেয়েসহ ৬/৭ জন আহত হয়। আশংকাজনক অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জে বিক্ষোভকারীরা চলে গেলে রাত ৯টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ দিকে ঘটনার দুইদিন পর মির্জাপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফার নির্দেশে পুলিশ অফিসার খোকন সরকার বাদি হয়ে জামুর্কি গ্রামের অজ্ঞাত প্রায় ৬০০শ’ নারী-পুরুষকে আসামি করে মামলা করেছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছেন। মামলার পর থেকেই পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের নানাভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উপরের নির্দেশে মামলা করা হয়েছে। তবে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না বলে তারা দাবি করেছেন।