মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের আগে গার্মেন্টস শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, আজ মঙ্গলবার সব গার্মেন্টস কারখানা খুলবে। শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত ধৈর্য ধরুন। শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়টি মজুরি বোর্ড সময়মতো ঘোষণা করবে। এরপরও যারা কাজে যোগ দেবে না ধরে নেব তারা আমাদের কেউ না। তারা কারখানা বন্ধের ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। গার্মেন্টস খাতে চলমান অস্থিরতা নিরসনের লক্ষ্যে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। শাজাহান খান এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে একটি যৌথ বিবৃতিতে উভয়পক্ষ স্বাক্ষর করেন। বৈঠকশেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এ বিবৃতির বিষয়ে অবহিত করেন। এছাড়া মজুরি বোর্ডকে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার আহ্বান জানান তিনি। নৌ-মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে কারখানায় কারা গোলযোগ করে তা দেখতে মালিক ও শ্রমিকরা মিলে সোর্স নিয়োগ করবে। এ খাত নিয়ে মৌলবাদীরা ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে তিনি বলেন, এরা ভয়ঙ্কর জীব। এদের প্রতিহত করতে হবে। তাদের ষড়যন্ত্রের দায় মালিক-শ্রমিকরা বহন করতে পারে না। বৈঠক সূত্র জানায়, গার্মেন্টস মালিকদের প্রতিনিধিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের কারখানার নিরাপত্তা দাবি করেন। তারা বলেন, এভাবে ষড়যন্ত্র চলতে থাকলে আগামী ঈদে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেয়া কষ্টকর হবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম সচিব মিকাইল শিপার, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এসএম মান্নান কচি, শহীদুল্লাহ আজিম, সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষ, সিরাজুল ইসলাম রনি, নাজমা আক্তার, জাহানারা বেগম প্রমুখ। বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি এসএম মান্নান কচি সাংবাদিকদের বলেন, মজুরি বোর্ড যৌক্তিকভাবে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত দেবে মালিকপক্ষ তা মেনে নেবে। গতকাল বিকালে বিজিএমইএ ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সংগঠনের সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, আমরা সরবারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছি। সরকারের নিরাপত্তার আশ্বাসে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামীকাল থেকে কারখানা খোলা থাকবে। আজ (গতকাল) অসন্তোষের কারণে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার প্রায় সব কারখানা বন্ধ ছিল। এর পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ৯৫ শতাংশ শ্রমিক কারখানার গোলযোগের সাথে জড়িত নয়। এক কারখানার লোক অন্য কারখানায় হামলা চালায়। গত শনিবার নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান গার্মেন্টস শ্রমিকদের সমাবেশে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা দেয়ার দাবি জানান। সেইসঙ্গে সমাবেশে শ্রমিকদের আসতে মালিকপক্ষ বাধা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর থেকেই দ্রুত পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। শ্রমিকদের মধ্যে একটি পক্ষ দ্রুত ছড়িয়ে দিতে থাকে সরকার মজুরি ৮ হাজার টাকার ঘোষণা দিয়েছে আর মালিকপক্ষ মাত্র ৬শ’ টাকা বাড়াতে চায়। ওইদিনের সমাবেশের বিষয়টি শ্রমিকদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি করে বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা মজুরি বোর্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম রনি। তিনি বলেন, সমাবেশে শ্রমিকদের ৮ হাজার টাকার মজুরি নিয়ে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে তা নিয়ে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। আইনের ভিত্তিতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষ আলাদা আলাদা মজুরির প্রস্তাব দিয়েছে। এরপর বোর্ড সিদ্ধান্ত দেবে। কিন্তু এরমধ্যে শ্রমিকরা গোলযোগ করলে তার দায়ভার আমাদের নয়। বৈঠকে শ্রমিক নেতাদের পক্ষ থেকে দ্রুত মজুরি কাঠামো ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং মালিকদের আরো সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কোন মন্ত্রীরই গার্মেন্টস খাতকে রাজনীতির মধ্যে নেয়া উচিত নয়। এছাড়া গতকাল একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে সর্বনিম্ন মজুরির প্রতিবেদনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, গার্মেন্টস খাতের চেয়ে কম মজুরি পায় এমন অনেক খাত বাংলাদেশে আছে। কিন্তু প্রতিবেদনে তা আসে না।