সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে আসছে গরু চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩৫
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার গরু আসছে। গরু আনাকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেট পুলিশ, বিজিবি, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ট গরু ব্যাবসায়ীসহ পরিবহন মালিকরা। কোরবানির সময় দেশে উত্পাদিত গরুতে চাহিদা না মেটায় ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণ গরু আসে বাংলাদেশে। অবৈধ পথে গরু আনতে গিয়ে কখনো ভারতের বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় নিরীহ গরু রাখালরা। মাত্র দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব রাখাল ভারত থেকে গরু আনার কাজ করে। বিজিবির ১৭টি বিওপির অধীনে সাতক্ষীরার ৩টি গবাদি পশু শুল্ক করিডোরের মাধ্যমে ৫০০ টাকা রাজস্ব নিয়ে সরকার এসব গরুর বৈধতা দিয়ে থাকে। বৈধভাবে আসা গরুর পাশাপাশি অবৈধভাবেও প্রচুর পরিমাণ গরু প্রবেশ করে। বৈধ বা অবৈধভাবে আসা এসব গরু বাংলাদেশ ভুখণ্ডে পা রাখার সাথে সাথে তা পড়ে চাঁদাবাজদের কবলে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরা কাস্টমস অফিসের মাধ্যমে সাড়ে ৬ লাখ গরু ছাড় করানো হয়েছে। আর এ গরু থেকে সরকার ৩২ কোটি ৫৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট এসব গরু থেকে রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, বিজিবিসহ শ্রমিক সংগঠনের নামে স্থান ভেদে গরু প্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।
সীমান্ত থেকে শুরু করে ৮ থেকে ১০ জায়গায় নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনসহ স্থানীয় নানান সংস্থার নামে রশিদ তৈরি করে গরুর ট্রাক থেকে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। আর তা না দিলে ট্রাক আটকে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। ছিনতাই করে নেয়া হচ্ছে গরু। সাতক্ষীরার ৩৮ বিজিবির অধিনায়ক লে:কর্নেল এ আর মোহাম্মদ পারভেজ মজুমদার জানান, শুল্ক দেয়া গরু যাতে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারে সেজন্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে। অতিরিক্ত টাকা আদায় বা চাঁদাবাজদের ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তত্পর রয়েছে।