নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী
শহীদুল ইসলাম, জেএফকে এয়ারপোর্ট থেকে
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩৬
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এর আগে সফরে আসা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রতিবারের মত এবছরও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানাতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নেতা-কর্মীদের অভ্যর্থনা গ্রহণ না করেই শেখ হাসিনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা কর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে ভিন্নপথে বিমানবন্দর এলাকা ছেড়ে যান।
অন্যদিকে বিমানবন্দরের চার নম্বর টারমিনালের সামনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিক্ষোভ ও কালো পতাকা প্রদর্শন করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিভিন্ন শ্লোগান দেন এবং শ্লোগান লেখা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন তুলে ধরেন।
বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির সভাপতি আবদুল লতিফ সম্রাট, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মুজিবর রহমান মজুমদার, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গিয়াস আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লুর, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির আরেক অংশের নেতা শরাফাত হোসেন বাবু ও বেলাল মাহমুদ, যুবদলের কেন্দ ীয় নেতা আব্দুল বাতিন, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদল সভাপতি আতাউর রহমান আতা প্রমুখ।
বিএনপির বিক্ষোভের কাছে দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শ্লোগান দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এর নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ সভাপতি জেড এ জয়, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া প্রমুখ।
এদিকে দু’পক্ষের ব্যাপক শ্লোগানে চার নম্বর টারমিনাল এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে বিপুলসংখ্যক পোর্ট অথরিটি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ব্যস্ততম বিমানবন্দরে হঠাত্ এ ধরনের মুহুর্মুহু শ্লোগানে হচতকিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রীর আগমণকে কেন্দ করে সরকারি দলের অভ্যর্থনা ও বিরোধী দলের বিক্ষোভ প্রদর্শন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা পরিবেষ্টিত হয়ে সরাসরি ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াতে হোটেলে যান। নিউইয়র্কে তিনি এই হোটেলেই অবস্থান করবেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি ও আমির হোসেন আমু এমপি এবং মহাজোটের শরিক বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগ সভাপতির তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, কয়েকজন দলীয় রাজনীতিক ও সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের চলমান ৬৮তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও তিনি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক ছেড়ে যাবেন।