গোপালগঞ্জের ৩ আসনেই শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগ

গোপালগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনেই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ জেলা হিসাবে নির্বাচনে গোপালগঞ্জের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এই জেলা থেকে নির্বাচিত হয়েই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দু’ বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এবারও এখানে দলটি বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৩ আসনেই প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপিরাই প্রার্থী হবেন-দলীয় সূত্রে এমন তথ্যই মিলেছে। তবে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এই দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণাও শুরু করেছেন। সভা-সমিতিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তাদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো নির্বাচনী এলাকা। অনেকে গণসংযোগও শুরু করেছেন, তবে মন্থর গতিতে। ভোটাররা জানান, আওয়ামী লীগ দু’বার ক্ষমতায় এসে জেলার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এ কারণে দলটির প্রতি জেলাবাসীর আস্থা আরো বেড়েছে। আগামী নির্বাচনে এর প্রতিফলন ঘটবে বলে তাদের ধারণা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের সময় এলাকায় আসতে না পারলেও মানুষ স্বতর্ঃস্ফূতভাবে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেন। নিজ নির্বাচনী এলাকা টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়ায় (গোপালগঞ্জ-৩) তিনি ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে তার প্রতি এলাকাবাসীর অবিচল আস্থা রয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে তিনি এবারও নির্বাচন করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম জিলানী, বিএনপি নেতা এস.এম আফজাল, কোটালীপাড়া উপজেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক আশোক কর্মকার এবং বিএনপির সাবেক এমপি লক্ষ্মীকান্ত বলের ছেলে এডভোকেট চিত্ত রঞ্জন বলের নাম শোনা যাচ্ছে। গোপালগঞ্জ-২ (সদর-কাশিয়ানীর একাংশ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বিশাল ভোটের ব্যবধানে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও নির্বাচন সামনে রেখে তিনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েই সেলিম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বলে নির্বাচন বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বি.এম লিয়াকত আলী এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাইছেন। তিনি গণসংযোগ শুরু করলেও দলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে নেই বলে জানা গেছে। অন্যদিকে এই আসনে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য ৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন। এরা হলেন: জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি এফ.ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম.এইচ খান মঞ্জু এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগের ২ জন ও বিএনপির ৩ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এই আসনের বর্তমান এমপি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নির্বাচনী এলাকায় ছুটে আসছেন। তিনি বিভিন্ন জনসভায় যোগ দেয়া ছাড়াও এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখাশোনা করছেন। তিনি এ আসন থেকে ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও তিনিই দল থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন-এটা মোটামুটি ধরে নেয়া যায়। তবে বিভিন্ন সময় নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ করায় এলাকায় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এলাকায় কিছুটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি সম্বলিত ব্যানার বিভিন্ন স্থানে টানানো দেখা গেছে। এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইসমত কাদির গামার নামও শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল ( অব.) মহব্বত জান চৌধুরী, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এফ.ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি সেলিমুজ্জামান সেলিম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক যুগ্ম সচিব মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহম্মেদ, প্রকৌশলী আলী আজম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাইদুর রহমান, তরুণ ব্যবসায়ী কে.এম মাসুদুর রহমান, বহুগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হরপ্রসাদ বাগচীর নাম শোনা যাচ্ছে।