কঠিন শর্তের ঋণসীমা শিথিল করছে আইএমএফ

কঠিন শর্তের ঋণের ক্ষেত্রে শর্ত কিছুটা শিথিল করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আগে অনমনীয় ঋণের সীমা সর্বোচ্চ ৩২৫ কোটি ডলার থাকলেও সংস্থাটির প্রস্তাব অনুযায়ী ২০১২ সালের জুলাই থেকে চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ দাতাদের কাছ থেকে মোট ৪শ’ কোটি ডলারের অনমনীয় ঋণ বা কঠিন শর্তের ঋণ নিতে পারবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, ইআরডি’র সঙ্গে গত রবিবার এ সংক্রান্ত এক বৈঠকে ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দল এ অতিরিক্ত ঋণ নেয়ার বিষয়টি জানিয়েছে। তবে প্রতিনিধি দলের এ সুপারিশ সংস্থাটির ওয়াশিংটনস্থ প্রধান কার্যালয়ের বোর্ডসভায় অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসাবে গণ্য হবে। বৈঠকে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রডরিগো কোবেরো। সাধারণত কোন ঋণে ৪ শতাংশের বেশি সুদ এবং ৭ বছরের কম সময়ের মধ্যে সুদসমেত ঋণ পরিশোধ করতে হলে সেটিকে কঠিন শর্তের ঋণ বলা হয়। বিদ্যুত্, যোগাযোগসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার উন্নয়ন প্রকল্পে সরকার এ ঋণ গ্রহণ করে। উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চে ৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার বর্ধিত ঋণ সুবিধা (ইসিএফ) অনুমোদন করে আইএমএফ। তিন বছর মেয়াদে এ ঋণ দেয়ার কথা। এজন্য নতুন ভ্যাট আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নসহ বাংলাদেশকে বেশকিছু শর্ত দেয় আইএমএফ। তিন কিস্তিতে এ পর্যন্ত মোট ৪২ কোটি ডলার অর্থছাড় করেছে সংস্থাটি। সুদবিহীন এ ঋণ সুবিধায় বাংলাদেশ সরকার বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতির অর্থায়নসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় করতে পারবে। ইতিমধ্যেই আইএমএফের শর্ত পালনে সরকার বাজেটে ভর্তুকির চাপ কমাতে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়েছে। ব্যাংক ঋণের সুদ হারে আরোপিত সীমা প্রত্যাহার করেছে। নতুন আয়কর ও ভ্যাট আইন কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতিতে সরকারের সামপ্রতিক নীতি অগ্রাধিকার ও কাঠামোগত সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগকে আইএমএফ ইতিবাচকভাবে দেখছে। আইএমএফ-এর বর্ধিত ঋণ সুবিধার শর্ত অনুযায়ী গত ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩২৫ কোটি ডলার পর্যন্ত অনমনীয় বা কঠিন শর্তের ঋণ সীমা ছিল। ওই সময়সীমার মধ্যে আইএমএফের শর্ত পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশ ২৮৬ কোটি ডলারের ঋণ নেয়। অর্থাত্ সীমার চেয়েও ৩৯ কোটি ডলার কম ঋণ নেয়া হয়েছিলো। এমতাবস্থায় প্রতিনিধি দল ইআরডির উপস্থাপিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে পরের তিন মাস অর্থাত্ চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭৫ কোটি ডলার ঋণসীমা বাড়াতে সম্মতি দেয়। অর্থাত্ চলতি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ চাইলে ৪০০ কোটি ডলারের অনমনীয় ঋণ নিতে পারে। সভায় আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪২৫ কোটি ডলারের একটি নির্দেশনামূলক লক্ষ্যমাত্রার প্রস্তাব দিয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে চুক্তি করতে হবে এরকম ৪৮৪ কোটি ডলারের ঋণ পাইপলাইনে রয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বাংলাদেশে ৬০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণ সহায়তা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।