ইন্টারনেট ব্যবহারে মেয়েদের তুলনায় এগিয়ে ছেলেরা

বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ব্যবহারে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা অনেক বেশি এগিয়ে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ছেলে এবং মেয়েদের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে সংখ্যার পার্থক্য আরও বাড়বে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। ‘ব্রডব্যান্ড অ্যান্ড জেন্ডার’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মোট সংখ্যা প্রায় ২.৮ বিলিয়ন বা ২৮০ কোটি। এর মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা প্রায় দেড়শ কোটি এবং মেয়েদের সংখ্যা প্রায় ১৩০ কোটি। সেই হিসেবে ছেলে এবং মেয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে সংখ্যার পার্থক্য প্রায় ২০ কোটি। শিরোনামে আশংকা করা হয়েছে, আগামী তিন বছরের মধ্যে ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যার পার্থক্য পৌঁছে যাবে ৩৫ কোটিতে। জাতিসংঘের ব্রডব্যান্ড কমিশনের এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা অনেক দেরিতে ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করে এবং তাদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ অনেক ধীরগতিতে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র প্রশাসক হেলেন ক্লার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছেন। এই গবেষণা অনুযায়ী উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যার পার্থক্য অনেক কম, যা উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলোতে অনেক বেশি। উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলোতে অনেক সময়েই কম্পিউটার বা এই ধরনের আইসিটি ডিভাইসকে ‘উচ্চ মানের’ বলে অভিহিত করা হয় এবং এগুলোর ব্যবহারকারী হিসেবে ছেলেদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সাব-সাহারা অঞ্চলে পুরুষদের তুলনায় অর্ধেক নারী ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। আবার বিশ্বব্যাপী মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে মেয়েরা। ছেলেদের তুলনায় ২১ শতাংশ কম মেয়ের হাতে রয়েছে মোবাইল ফোন, সংখ্যাগত দিক থেকে যার ব্যবধান প্রায় ৩০ কোটি। বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোনের বাইরে থাকা এই বিপুল পরিমাণ মেয়েদের ইন্টারনেট এবং মোবাইল ব্যবহারের আওতায় নিয়ে আসা হলে ডিভাইস প্রস্তুতকারক, নেটওয়ার্ক অপারেটর, সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারসহ সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রেই নতুন বাজার এবং সম্ভাবনা তৈরি হওয়া সম্ভব। বিশ্বব্যাপী জিডিপিতেও এটি বড় ধরনের অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।