সময় গণনা
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৮:৩৮
সময় আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সময়ের মাধ্যমেই আমরা নির্ধারণ করি আমাদের কাজগুলো। যেমন: স্কুলে যাওয়া, মটর দিয়ে পানি তোলা, টিভিতে কোন অনুষ্ঠান কখন হবে, ওভেনে খাবার তৈরি করা ইত্যাদি। আর এই সময় চিনতে বা জানতে সাহায্য করে ঘড়ি। প্রায় হাজার হাজার বছর আগে, মিশরে প্রথম সূর্য ঘড়ি ব্যবহূত হয়। সূর্যঘড়ি ছাড়াও সেখানে ছিল আগুন ঘড়ি, বালি ঘড়ি, পানি ঘড়ি নামক মজার মজার ঘড়ির ব্যবহার। এখন আমরা এসব ঘড়ির ব্যবহার সম্পর্কে জানব। সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা, ঘন্টা থেকে দিন। এমনি করে চলে যাচ্ছে মাস, বছর ও যুগ।
আগুনঘড়ি :আগের দিনের মানুষ একটি নির্দিষ্ট কাঠ পুড়তে যত সময় লাগতো তা দেখে সময় হিসাব করতো। কিন্তু এ পদ্ধতিতে অসুবিধা ছিল অনেক। সব কাঠ নির্দিষ্ট দাগ পর্যন্ত পুড়তো না। তাছাড়া কাঠের ভেজা-শুকনা অবস্থার ওপরও পোড়ার সময় নির্ভর করতো। তাই পরে শুকনো দড়িকে পাকিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর গিঁট দিয়ে পোড়াতে লাগল। পরে এই গিঁটের সংখ্যাগুণে দিনের সময়কে ভাগ করতো।
সূর্যঘড়ি :সূর্য ঘড়ির কাজ খুব সহজ ছিল। একটি কাঁটা নির্দিষ্ট হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এবং এর ছায়া একটি সমতল পিঠে পড়ত। সময়কে ভাগ করার জন্য সমতল পিঠে দাগ কাটা হতো। মিশরের সূর্যঘড়ি সবচেয়ে পুরনো হলেও পৃথিবীর অনেক দেশেই এ ঘড়ির প্রচলন ছিল। সূর্য ঘড়ি রাতে কোন কাজে লাগতো না। তাছাড়া দিনকে বারো ঘন্টা ভাগ করে দাগ দিয়ে রাখলেও তা সবসময় ঠিক থাকত না, কারণ বছরের সব সময় দিনের সময় সমান নয়।
পানিঘড়ি :প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে চীন দেশে পানি ঘড়ির প্রচলন ছিল। পরে গ্রীস, মিশর, রোমেও এ ঘড়ির ব্যবহার হতো। পাত্রের নিচে ছোট ছিদ্র করে সে পাত্রে জল রাখা হতো এবং পাত্রে জল রাখার পর পাত্রের গায়ে চব্বিশটি দাগ কেটে দেয়া হতো। জল ছিদ্র থেকে বের হয়ে নির্দিষ্ট দাগগুলো অতিক্রম করতো। তারপর এ দাগ গণনা করে দিনের সময়কে হিসেব করা হতো।
বালিঘড়ি :বালি ঘড়ির নাম ছিল ‘আওয়ারগ্লাস’। এ ঘড়িতে দু’টি ফানেলের মতো কাঁচের পাত্র থাকতো। ফানেলের নল দু’টি জোড়া লাগিয়ে দেয়া হতো। তারপর পরিষ্কার বালি একটি ফানেলে রাখা হতো এবং ফানেল দু’টি পরস্পর উল্টো করে রাখা হতো। উপরের বালি আস্তে আস্তে নিচের ফানেলে পড়তো এবং সময় লাগতো একঘন্টা। এমনিভাবে দিনকে বারো ঘন্টায় ভাগ করে বারো বার ফানেলকে উল্টিয়ে রাখা হতো। এভাবে নিচের ফানেল উপরে এবং উপরের ফানেল নিচের দিকে রাখা হতো পর্যায়ক্রমে উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে। এক পাত্র থেকে অন্য পাত্রে বালি পড়ার হিসেব দেখে সময় গণনা করা হতো। কতো কষ্ট হতো আগেরদিনের মানুষের সময় জানতে দেখলেই তো বন্ধুরা। কিন্তু মানুষের চেষ্টা আর বিজ্ঞানের কল্যাণে আজ আমরা কতো সহজে এবং সঠিক সময় জানতে পারছি। একবার তাকিয়েই দেখো না, তোমার ড্রইংরুম বা শোবার ঘরের ঘড়িটির দিকে, বুঝতে পারছো বন্ধুরা।