গল্প নয় সত্যি

৫৫ বছর পর!

চিঠি লেখার চল এখন উঠে গেছে বললেই চলে। সেই সাথে বিলুপ্তির পথ ধরেছে চিঠির মাধ্যমে বন্ধুত্ব তথা পত্র-মিতালিও। কিন্তু হালের প্রযুক্তি বিপ্লবের বহু যুগ আগে জন্ম নেওয়া দুই নারী লিন্ডা মার্টিন ও ওয়েন্ডি নোরির মেয়েবেলার গল্পটা মোটেও এমনতর ছিল না। বরং ষাটের দশকের সেই সময়টায় রীতিমতো প্রাথমিক স্কুল পর্যায় থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের উত্সাহ দেওয়া হতো পত্র-মিতালির জন্য। এমনকি পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশের স্কুলগুলোতেও আনুষ্ঠানিকভাবে পত্র-মিতালির আবেদনসহ চিঠি যেত। যেমনটা গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ইউগোওরার ফিফথ গ্রেডের ছাত্রী ওয়েন্ডির কাছেও। তার তখনকার শিক্ষক মি. উইলকক্স তারই নামের শেষাংশ দিয়ে নাম, আমেরিকার নব্রাস্কার এমন একটি শহরের শিক্ষার্থী লিন্ডা মার্টিনকে মনোনীত করেন ওয়েন্ডির পত্রমিতা হিসেবে। প্রথমদিকে বিষয়টাকে স্কুলের একটা কাজ হিসেবেই নিয়েছিলেন ওয়েন্ডি। লিন্ডার কাছে লেখা প্রথম চিঠিটাও ছিল একেবারে সাদামাটা কুশলাদিতে ভরা। সেটা ছিল ১৯৫৮ সালের ৩ অক্টোবরের কথা। তখন লিন্ডা সবে ১১-তে পা দিয়েছেন। ওয়েন্ডির বয়সও কাছে পিঠেই। সে যাই হোক, ওয়েন্ডির প্রথম চিঠির উত্তরটা বেশ আন্তরিকতা নিয়েই দিয়েছিলেন লিন্ডা। সেই সাথে ছিল কিছু প্রশ্নও যার উত্তর দিতে দ্বিতীয়বারের মতো লিখেন ওয়েন্ডি। আর এভাবেই নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে প্রতি মাসে একটি করে চিঠি লিখতে থাকেন ওয়েন্ডি ও লিন্ডা। এরই মাঝে বড় হওয়ার ব্যস্ততায় চিঠির পরিমাণ কমে। প্রতিমাসের জায়গায় চিঠি যেতে থাকে ছুটির সময় আর অবসরে। কিন্তু সেটাও অনিয়মিত নয়। বরং অনেকটা নিয়ম মানা বিরতি দিয়েই। আর এভাবেই দশকের পর দশক পারি দেয় অদ্ভুত মুগ্ধতার এই বন্ধুত্ব। যেমনটা বলছিলেন ওয়েন্ডিও, ‘এই সময়ের মধ্যে আমরা বড় হয়েছি, সন্তান লালন-পালন করেছি এবং জীবনের সকল চড়াই পাড়ি দিয়েছি। আর এসবকিছুর মাঝে এই বন্ধুত্বটা যেন ছিল পৃথিবীর আরেক প্রান্তের একজন মানুষের সাথে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মতোই অবিস্মরণীয়।’ বিশাল এই প্রেক্ষাপট পড়বার পর যারা এখনো এটির সংবাদ মূল্য খুঁজছেন এবার তাদের জন্যই জানিয়ে দেওয়া; প্রায় ৫৫ বছরের বন্ধুত্বের পথ অতিক্রম করে সম্প্রতি প্রথমবারের মতো একে অন্যের সঙ্গে দেখা করেছেন লিন্ডা ও ওয়েন্ডি। একটা কাজের সূত্র ধরে ওয়েন্ডির আমেরিকা ভ্রমণই দীর্ঘদিনের পত্রমিতা লিন্ডার সাথে প্রথমবারের মতো সাক্ষাতের এই সুযোগ করে দেয়। তবে এই ঘটনাটির চেয়েও বিস্ময়কর তথ্য হলো, মাঝের এই সময়টাতে প্রযুক্তির এত উন্নতি সত্ত্বেও লিন্ডা ও ওয়েন্ডি কিন্তু একটিবারের জন্য একে অন্যকে ফোন করেননি। সাহায্য নেননি ই-মেইলেরও। বরং যেই চিঠির সুতোয় গাঁথা ছিল তাদের বন্ধুত্ব, সেই চিঠির প্রতিই বন্ধুত্বের ৫৫ বছর পর্যন্ত বিশ্বস্ত থেকেছেন তারা।