মানিকগঞ্জে যমুনার ভাঙ্গনে
বিস্তীর্ণ জনপদ বিলীন
মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:২৭
গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টি ও যমুনা, ধলেশ্বরী নদীর অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা, বাঘুটিয়া,চরকাটারী, জিয়নপুর, খলশী,চকমিরপুর ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনে ৩ শতাধিক বসতবাড়ি, পাকা রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারসহ প্রচুর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর ভাঙ্গনের শিকার যমুনার চরাঞ্চলের শতশত খেটে খাওয়া মানুষ ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র নৌকাযোগে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। তারা অন্যের জমির উপর বাড়িঘর, জিনিসপত্র নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
গত ৮ দিনে যমুনার ভাঙ্গনে দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের চুয়াডাঙ্গা, বাচামারা ঘোষপাড়া, কল্যাণপুর, বাচামারা উত্তর খন্ড, সুবুদ্দিয়া, চরকাটারী ইউনিয়নের কাঠালতলি, লালপুর, চরকাটারি ডাক্তারপাড়া, বাগপাড়া, মন্ডলপাড়া, কামারপাড়া, বাঘুটিয়া ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি, রাহাতপুর , কাশিদারামপুর, ব্রামনদী, পুড়ানপাড়া, পারুরিয়া, জিয়নপুর ইউনিয়নের বরটিয়া, লাউতারা, বৈন্যা, আমতলী,আবুডাঙ্গা, খলসী ইউনিয়নের রোহা, পাররোহা- এই ২০ টি গ্রামের ৪ শতাধিক পরিবার বাড়িঘর, জমিজমা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
গত ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ফলন কম হওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠার জন্য ফের ইরি-বোরো ধান আবাদ করে । কৃষকের আবাদ করা সেই কয়েকশত হেক্টর আবাদি জমিও ধানসহ নদীতে বিলীন হয়েছে।
নদীর ভাঙ্গনে শিকার চরকাটারী বাগপাড়া গ্রামের মো. সুলতান বাগ বলেন, “সর্বনাশা যমুনা নদী আমার বাপ- দাদার ভিটা তো নিছেই। আমি যে কয়বার বাড়ি করছি আর নদী কয়বার ভাংছে। এই বার নিয়া ১০/১২ বার বাড়ি ভাংলো।”
এদিকে গত ২/৩ মাস যাবত্ বাগপাড়া চরে খোলা আকাশের নিচে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত মানুষ। তাদের মাঝে তীব্র খাদ্য সংকট বিরাজ করছে। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের আশায় পথ চেয়ে আছেন তারা। একইভাবে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত আরো অনেকে পার্শ্ববর্তী নাগরপুর উপজেলার ফৈজপুর, মাইজাইল চরে আশ্রয় নিয়েছেন।
জিয়নপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন জানান, স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে মাটির ও বালির বস্তা ও গাছের ডালপালা ফেলে নদী ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চলছে, কিন্তু সরকারিভাবে ভাঙ্গন রোধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বাচামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ সরকার বললেন, সরকার ভাঙ্গনরোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করলে বাচামারা ইউনিয়নসহ চারটি ইউনিয়ন একসময় নদীতে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ.বি. এম আনোয়ারুল হক জানান, ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জরুরী ভিত্তিতে নদীভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।
সুন্দরগঞ্জে ৭ শতাধিক পরিবার গৃহ-হারা
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় নদী ভাঙ্গনে ৭ শতাধিক পরিবার গৃহ-হারা হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদে তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে।
নদী ভাঙ্গনে এ পর্যন্ত ৭ শতাধিক পরিবারের ভিটা-মাটি, ফসলী জমি, পানের বরজ, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে-চরিতাবাড়ি, কানি চরিতাবাড়ি, ছয়ঘড়িয়া, হাজারির হাট, রাঘব, উজান বুড়াইল, ভাটি বুড়াইল, লাল চামার, কাশিম বাজার, লখিয়ারপাড়া, পাড়া সাদুয়া। ওই সব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।