কাজল তত্ত্ব এবং চলচ্চিত্রের লজ্জা!
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৩৪
শোবিজে চলচ্চিত্রের অবস্থা যখন কিছুটা ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে তখন পিএ কাজলের নোংরা কিছু ফেসবুক চ্যাট এবং এক তরুণীর সাথে কথোপকথন যেন আরও লজ্জায় ডুবালো। এ নিয়ে দৃঢ় কোনো পদক্ষেপ না নিলেও নোংরা ও অশালীন বক্তব্য নিয়ে পরিচালক সমিতি পিএ কাজলের বিষয়টা নিয়ে আলোচনায় বসেছিল বলে জানা যায়। কিন্তু সে আলোচনা শুধু আড্ডা আর চায়ের কাপের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ ইতিপূর্বে কোনো পরিচালকের এতটা নোংরা কথোপকথন কোনো মিডিয়াতে প্রকাশ পায়নি। পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার তার আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলছেন, ‘এটা একটা ট্র্যাপ। তবে পিএ কাজল অবশ্যই ভুল করেছে। একইসাথে ওই কথিত মেয়ে বা মডেলও সমান অপরাধী। তাকেও আমরা শায়েস্তা করার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে বিটিআরসিকে আমরা নোটিশ দিয়েছি ওই মডেল বা প্রতারককে খুঁজে বের করতে।’ এদিকে পিএ কাজল মিডিয়ার সামনে আলোচনার ভয়ে কোনো রকম কথা না বলেই চিকিত্সার বাহানায় দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এমনটা জানা যায়। সর্বশেষ কাজল তার ফেসবুকে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে আরও একবার মিথ্যাচার করেন। কারণ পরিচালক সমিতির মিটিংয়েই নাকি পিএ কাজল সবার কাছে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং পুরো অপরাধটি স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, এ প্রসঙ্গে একটি টিভি টকশোতে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বলেছেন, ‘পিএ কাজল যা করেছে, তা সত্যিই আমাদের লজ্জায় ডুবিয়েছে। আর সে তার অপরাধ স্বীকার করেছে। আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ওর এই কুকর্মের কারণে তো আমাদের সবাইকে কথা শুনতে হচ্ছে। এ ঘটনার জন্য চলচ্চিত্রাঙ্গন নিয়ে একটা খারাপ ধারণা তৈরি হবে সবার।’ এদিকে কথিত সেই মডেলের এটা একটা প্রতারণা, এমন কথা যখন বলা হচ্ছে তখন উঠতি অভিনেত্রী অমৃতা খান সেই হাটে হাঁড়ি ভেঙে বললেন, ‘বেশ কয়েক মাস আগে শাবনূর-মৌসুমীর রেফারেন্স দিয়ে তাকেও বাজে ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন এই বিকৃত রুচির পরিচালক পিএ কাজল।’ তাই এরপরও পরিচালক সমিতির নিশ্চুপ থাকা অনেক বড় একটি প্রশ্ন তৈরি করেছে। একইসাথে পিএ কাজলের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে উঠে আসা পূর্ণিমা, সাহারা, মাহিসহ একাধিক তারকারও বিব্রতকর অবস্থায় আছেন। এমনকি একপর্যায়ে পিএ কাজলের বিরুদ্ধে পূর্ণিমার মামলা করার একটা গুজব উঠলেও পরে তা আর হয়নি।
অন্যদিকে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সাথে মাহির সম্পর্ক নিয়ে ভেতরের খবর বেরিয়ে আসায় কিছুটা বিব্রত ও বিরক্ত হয়েছেন জাজের কর্ণধার মোহাম্মদ আজিজ। তিনি বলেন, ‘এত বাজে বিষয় নিয়ে আসলে কথা বলতেও লজ্জা লাগছে। কাজলের মানসিক ডাক্তারের প্রয়োজন। ও আমাদের সবার মানসম্মান ডুবিয়েছে।’
তাই বিতর্কের উনুনে আগুন যেমন ক্রমাগত বাড়ছে, ঠিক তেমনি পরিচালক সমিতি যেন অপেক্ষার দিন গুনছেন কোনোমতে বিষয়টিকে মিডিয়ার থেকে আড়াল করতে পারলেই পিএ কাজলকে বাঁচানো যাবে। নয়তো একজন চলতি অভিনেতা ও চলচ্চিত্রকর্মী অমৃতার ফেসবুক কথোপকথন প্রকাশ হওয়ার পরও কেন নীরব ভূমিকা তাদের? এ যেন নতুন রহস্যের জাল তৈরি করেছে। তবে পুরো বিষয়টি গোটা চলচ্চিত্রাঙ্গনে যে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তা বলাই বাহুল্য। এখন পিএ কাজলের এই আত্মগোপন এবং অতঃপর থলের বিড়াল বের হওয়ার পর কী সিদ্ধান্ত নেয় পরিচালক সমিতি সেটিই এখন দেখার বিষয়!