ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতে দেশের উত্তারাঞ্চলের তিন জেলায় অন্তত পাঁচ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। গতকাল শুক্রবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ ও নওঁগায় পাঁচজনের প্রাণহানি হয়। দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো থেকেও আহত এবং বাড়ি-ঘর, দোকানপাটে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিদ্যুিবচ্ছিন্ন হয়ে গেছে অনেক এলাকা। আম ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ইত্তেফাকের সংশ্লিষ্ট জেলা প্রতিনিধরা জানান, শুক্রবার বিকালে ঝড়ের সময় বাড়ির উপর থেকে মাথায় ইট পড়ে পুঠিয়ার বানেশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সোবহান সরকার (৬৫) নিহত হন। পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল উদ্দিন আহমেদ জানান, ঝড়ের সময় সোবহান সরকার বানেশ্বর বাজারে তার বাণিজ্যিক কার্যালয়ে বসে ছিলেন। ঝড়ে সেখানকার টিন উড়ে যায় এবং উপর থেকে একটি ইট তার মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুরে ধানকাটার সময় বজ্রপাতে দুইজন কৃষক নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- শ্রীরামপুর গ্রামের মো. মোতালেব হোসেনের ছেলে মোশাররফ হোসেন (৩৫) ও মৃত হযরত আলীর ছেলে রেজাউল করিম (৫৫)। এছাড়া আহত হয়েছেন মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে হযরত আলী (৫৮)। অন্যদিকে নওগাঁর পোরশা উপজেলার গানোইর বিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে হাসান (৩০) ও শফিনূর (২৮) নামে দুই শ্রমিক নিহত এবং বুলবুল আহমেদ (৩২) নামের আরেকজন আহত হয়েছেন।
ঝড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুত্ বিতরণ ব্যভস্থা ল্লভন্ড হয়ে পড়ে। ঝড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি গগন শিরিষ গাছ উপাচার্যের বাসভবনের প্রাচীরে উপড়ে পড়লে প্রাচীরের একাংশ ভেঙে যায়।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আম ও পাকা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পাট এবং ভুট্টারও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে কোথাও ঝড় বা শিলা না থাকলে শুধু বৃষ্টিতে পাট-ভুট্টার উপকার হবে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, প্রায় ৪০ মিনিট ঝড়সহ এক ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ঝড়ের গতিবেগ ছিল ৫০ দশমিক ৪ কিলোমিটার। ঝড়-বৃষ্টিতে তাপদাহ প্রশমিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।