জমা পড়লো বিসিবি কাউন্সিলরদের নাম
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৪
অবশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনের জন্য কাউন্সিলরদের নাম এসে পৌঁছালো বিসিবির কাছে। গতকাল ছিল কাউন্সিলরদের নাম জমা দেয়ার শেষ দিন। শুরুতে অফিস সময়ের মধ্যেই নাম জমা দেয়ার কথা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে রাত দশটা পর্যন্ত করা হয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় সব জেলা ক্রীড়া সংস্থা, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা ও ঢাকার ক্লাবগুলো যার যার প্রতিনিধির নাম জমা দিয়ে দিয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকজন ‘হেভিওয়েট’ কাউন্সিলর বলে পরিচিত সংগঠক বাদ পড়েছেন। আর ইতিমধ্যে কাউন্সিলরশিপ নিয়ে নানারকম হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকদের পরিষদ।
বলাই বাহুল্য, কাউন্সিলরাই হলেন বিসিবি নির্বাচনের ভোটার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ঢাকার ক্লাবগুলোর কাউন্সিলররা মিলে ঢাকার পরিচালকদের নির্বাচিত করবেন এবং প্রতিটি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা ভোট দিয়ে যার যার বিভাগ থেকে কাউন্সিলর পাঠাবেন। এই নিয়ম নিয়েই নানা আপত্তি ছিল শুরু থেকে। আপত্তি ছিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ সুপার লিগে খেলা ছয়টি ক্লাবকে দুটি করে কাউন্সিলরশিপ দেয়া নিয়েও।
এসব আপত্তির মধ্যেও কাল কাউন্সিলরদের তালিকা জমা পড়ল। এই তালিকায় দেশের শীর্ষ দুই ক্লাব, আবাহনী থেকে নাজমুল হাসান পাপন ও সায়ান রহমান এবং মোহামেডান থেকে মাহবুব আনাম ও লোকমান হোসেন ভুঁইয়া কাউন্সিলর হিসেবে এসেছেন। নির্বাচনে পাপন প্রতিপক্ষ শিবিরের প্রধান বলে পরিচিত সাবের হোসেন চৌধুরী বারিধারা ডেজলার থেকে কাউন্সিলরশিপ জমা দিয়েছে। ঢাকার ক্লাব সমিতির সভাপতি মনজুর কাদের কাউন্সিলরশিপ পাচ্ছেন মুন্সিগঞ্জ জেলা থেকে এবং জেল-বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক ফোরামের সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু কুমিল্লা জেলা থেকে কাউন্সিলর হচ্ছেন। এ ছাড়া পরিচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে গাজী ট্যাংক থেকে গোলাম মুর্তজা বাপ্পা ও লুত্ফর রহমান বাদল, সূর্যতরুণ থেকে আফজালুর রহমান সিনহা, আজাদ বয়েজ থেকে এনায়েত হোসেন সিরাজ, রায়ের বাজার থেকে জালাল ইউনুস, র্যাপিড ফাউন্ডেশন থেকে হানিফ ভুঁইয়া, ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে দেয়া সফিউল আরেফীন টুটুল, গুলশান ইয়থ ক্লাব থেকে ইফতেখার রহমান মিঠু, পারটেক্স থেকে আজিজ আল কায়সার টিটো কাউন্সিলরশিপ পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
জাতীয় দলের দুই সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও আকরাম খান এবার সরাসরি জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলর হিসেবে নাম পাঠানো হয়েছে আকরাম খানের। আর মানিকগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে এসেছেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়।
এই আকরাম খানকে কাউন্সিলর হিসেবে পাঠাতে গিয়ে অবশ্য গোলমালও লেগেছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এই প্রক্রিয়ায় বাদই পড়ে গেছেন। তিনি গতকাল অভিযোগ করেছেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার আমার কাউন্সিলশিপে সই করে দিয়েছেন। তারপর গতকাল (সোমবার) রাতে কিভাবে সেটা বদলে গেল বুঝতে পারি না। আমি আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছি। আইনের আশ্রয় নেব।’
এদিকে বাদ পড়েছেন নড়াইলের আলোচিত সংগঠক ও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু। তিনি অভিযোগ করছেন, তার জেলাতে নিয়ম অনুসরণ করে ফর্মই পাঠানো হয়নি, ‘আমরা জানি, কোনো ফর্ম আসেনি। আমাদের জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি, জেলা প্রশাসক এখন ছুটিতে আছেন। তিনি বা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দুজনই ফর্ম পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। আজ (গতকাল) বিকাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আমাকে ঘুরিয়েছেন। এখন নড়াইল কেন কাউন্সিলর পেল না, তার প্রতিবাদে আমরা আগামীকাল ডিসি অফিস ঘেরাও করবো।’
এদিকে পুরো ব্যবস্থায় অনেক অনিয়ম এরই মধ্যে বেরিয়ে এসেছে বলে গতকাল মন্তব্য করেছেন সাবের হোসেন চৌধুরী, ‘আমি আগেও বলেছি, যারা পাপন সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছে, তারাই বেছে বেছে কাউন্সিলর হলে বোঝা যাবে একটা ষড়যন্ত্র চলছে। এখন তো তাই মনে হচ্ছে। বিভিন্ন জেলায়, এমনকি ক্লাবগুলোতে অনিয়ম হয়েছে।’