বক্স :অনলাইন স্টোরেজের চাইতেও বেশিকিছু

গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠিত সব টেক জায়ান্টরা ৫ গিগাবাইট থেকে শুরু করে ১৫ গিগাবাইট পর্যন্ত বিনামূল্যের স্টোরেজ অফার করছে গ্রাহকদের জন্য। এর বাইরেও বেশকিছু অনলাইন স্টোরেজ সার্ভিস রয়েছে, যেগুলোও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে বিভিন্ন ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী ফিচারের জন্য। এরকমই একটি অনলাইন স্টোরেজ সার্ভিসের নাম বক্স ডটকম (www.box.com)। প্রচলিত অনলাইন স্টোরেজ সার্ভিসগুলোর সব ফিচারই রয়েছে এতে। তবে সম্প্রতি বাড়তি বেশকিছু নতুন ফিচার যুক্ত হয়েছে তাদের এই সেবাতে। কী আছে বক্সে অন্যান্য ক্লাউড স্টোরেজের মতোই বক্স ডটকমে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে বিনামূল্যের অনলাইন বা ক্লাউড স্টোরেজ। বিনামূল্যে ১০ গিগাবাইট পর্যন্ত ফ্রি স্টোরেজ অফার করে বক্স ডটকম। তবে এর বাইরে যারা ছোট-বড় নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বক্স ডটকমের রয়েছে আলাদা আলাদা প্যাকেজ। অনলাইন এই প্ল্যাটফর্মেও অন্য সব সার্ভিসের মতোই সংরক্ষণ করা যায় যেকোনো ধরনের ফাইল। আর সেগুলোকে অ্যাকসেসও করা যায় যেকোনো স্থান থেকেই। পাশাপাশি এখানে রক্ষিত ফাইলগুলোর লিংক সরাসরি পাঠানো যায় ইমেইলে। ফলে ইমেইলে বড় আকারের ফাইল অ্যাটাচ করার ঝামেলা একেবারেই নেই। আবার এখানে সরাসরি ফাইল কিংবা একটি ফোল্ডারও শেয়ার করা যায় অন্যদের সাথে। পাশাপাশি এখানে একাধিক ব্যক্তি মিলে একটি ফাইল সম্পাদনার কাজও করা যায়। অনলাইন কোলাবরেশনের এই সুবিধা নিয়ে একটি ফাইলকে একাধিক ব্যক্তির সাথে শেয়ার করে সেটি নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ওই ফাইলে যে কেউ যেকোনো স্থান থেকে কাজ করলেই তা তাত্ক্ষণিকভাবে আপডেট হয়ে যাবে। আবার সব ধরনের আইফোন, আইপ্যাড এবং অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট পিসি থেকেও ব্যবহার করা যাবে বক্স ডটকম। বক্সের নতুন চার ফিচার উপরে বক্সের যেসব ফিচারের কথা বলা হয়েছে, তার সবই রয়েছে অন্যান্য অনলাইন স্টোরেজেও। এর বাইরে নতুন আরও চারটি বিশেষ ফিচারের ঘোষণা দিয়েছে বক্স ডটকম, যেগুলো একে অন্যান্যদের চাইতে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে। ১. মেটাডাটা :অন্যান্য অনলাইন স্টোরেজের মতো বক্স ডটকমেও ফাইলের নাম এবং ধরণটি সাধারণত প্রদর্শন করা হয়। তবে এখন থেকে প্রতিটি ফাইল সম্পর্কে বাড়তি অনেক তথ্যই প্রদর্শন করা যাবে বক্স ডটকমে। যেমন, কেউ যদি বক্স ডটকমে তার কোনো এক্সরে ইমেজ সংরক্ষণ করে, সেই ইমেজের সাথে মেটাডাটা হিসেবে রোগীর নাম, ডাক্তারের নাম, ডায়াগনসিসের ধরণ প্রভৃতি তথ্য জুড়ে দেওয়া যাবে। প্রতিটি ফাইলের জন্য এসব মেটাডাটা ফাইলগুলোকে খোঁজার কাজটিও সহজ করে দেবে। ২. বক্স নোট :বক্সে সাধারণত অন্যদের তৈরি করা ডক্যুমেন্ট ফাইলই সংরক্ষণ ও সম্পাদনা করার সুযোগ রয়েছে। তবে এর বাইরে এবারে তারা নিজেরাই ডক্যুমেন্ট তৈরির সুযোগ দিচ্ছে। নোট তৈরির জন্য বিভিন্ন ধরনের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন থাকলেও বক্সের এই নোট অ্যাপ্লিকেশনটির মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি মিলেই তৈরি করা যাবে একটি ফাইল, যাতে টেক্সট, ইমেজ সবই রাখা যাবে। ৩. প্রিভিউ :কোনো ফাইলের সাথে প্রিভিউ দেখার সুযোগ সাধারণতই ক্লাউড স্টোরেজগুলোতে থাকে না। তবে সেই সুযোগ করে দিচ্ছে বক্স ডটকম। তারা সব ধরনের অফিস কিংবা পিডিএফ ফাইলকে এইচটিএমএল৫ ফরম্যাটে রূপান্তর করার প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। ফলে ফাইলগুলোকে সহজে দেখা এবং সেগুলো সম্পাদনাও সহজ হবে বলে মনে করছে বক্স ডটকম। ৪. নতুন আইওএস অ্যাপ :এর আগেও আইওএস ডিভাইসে কাজ করত বক্স ডটকম। তবে তাতে পাওয়ারপয়েন্ট, পাবলিশার প্রভৃতি ফাইল নিয়ে কাজ করা যেত না। আইফোন, আইপ্যাডের জন্য তাদের নতুন যে অ্যাপ্লিকেশনটি তৈরি হয়েছে, তাতে এসব ফাইল নিয়েও কাজ করা যাবে। বক্স আশা করছে, তাদের নতুন এসব ফিচার তাদের জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।