চার বাসে আগুন, শতাধিক গাড়ি ভাংচুর, ৬০ কিমি যানজট

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিহত হওয়ার জের ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যারিকেড দিয়ে শতাধিক যানবাহন ভাংচুর ও ৪ টি বাসে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় পৌরসদর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রুবেল নামে এই ছাত্র মহাসড়ক পার হওয়ার সময় চট্টগ্রামমুখী একটি বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলা প্রসাশন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের যৌথ আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যারিকেড তুলে নেন ছাত্ররা। এসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ৬০ কি. মি. জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী সাধারণ। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিবিএ ৪র্থ বর্ষের ছাত্র নূরুন নবী রুবেল (২২) সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের শেখেরহাট এলাকার আইয়ুব আলীর একমাত্র পুত্র। রুবেলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, বাড়বকুণ্ড ও সীতাকুণ্ড সদরে ব্যারিকেড দেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় স্থানীয় শিবির কর্মীরা ছাত্রদের সঙ্গে গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা সীতাকুণ্ড বাইপাস সড়ক ও সিরাজ ভুঁইয়া রাস্তার মাথা এলাকায় ৩টি বাস ও একটি ট্রাকে আগুন দেন। এসময় তারা শতাধিক যানবাহন ভাংচুর করেন। এদিকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ব্যারিকেডের ফলে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট থেকে সীতাকুণ্ড উত্তর বাইপাশ সড়ক পর্যন্ত ১৫ কি. মি. এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। আতংকের নগরীতে পরিণত হয় পুরো সীতাকুণ্ড। দুই পার্শ্বে আটকা পড়ে শত শত দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি। চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে হাজার হাজার যাত্রী। নিহতের পিতা আইয়ুব আলী বলেন, অনেক কষ্ট করে একমাত্র ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার জন্য পাঠিয়েছি। কিন্তু ঘাতক বাস অকালে ছেলেকে আমার বুক থেকে কেড়ে নিয়েছে। আর যেন এরকম পরিস্থিতির শিকার হতে না হয় কোন পিতা-মাতার সেই দাবি জানান তিনি। গতকাল রুবেলের সৈয়দপুর ইউনিয়নের শেখেরহাট বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এলাকার মানুষের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে আসে।