পীরগঞ্জের কেঁচো সারের সফল খামারি হান্নান এখন লাখপতি

কেঁচো। বৈজ্ঞানিক নাম মেটাফেরেটুমা পোসু্তমা। মাটির নিচেই বসবাস। গোবর, মাটি ও পচা দ্রব্যই কেঁচোর খাদ্য। জমির উর্বরতা বাড়াতে কেঁচোর গুরুত্ব অপরিসীম। কেঁচোকে কৃষকের বন্ধু বা প্রাকৃতিক লাঙ্গলও বলা হয়। সাড়ে সাত লাখ কেঁচোর চাষের মাধ্যমে জৈব সার (ভার্মি) উত্পাদন খামার করে অল্পদিনেই লাখপতি বনে গেছেন রিকশাচালক হান্নান। পাশাপাশি ওই খামার প্রতিষ্ঠা করে ৪ জনের কর্মসংস্থানও করেছেন তিনি। যেভাবে শুরু রিকশার প্যাডেল ছেড়ে এক বছর আগে তার মাত্র ৩৫ শতক আবাদি জমি বন্ধক রেখে ৮ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু। দিনাজপুর থেকে ৩ হাজার কেঁচো কেনেন সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। বাকি টাকায় অন্যান্য উপকরণ কিনে বাড়িতে কেঁচো সার উত্পাদনের খামার করেন। কেঁচো সার তৈরির প্রধান উপকরণ গোবর। কেঁচোগুলোকে খাবার হিসেবে গরুর গোবর দেন। ওই গোবর থেকেই প্রতি মাসে ৩০০ মন জৈব সার হয়। স্ত্রী তহমিনা বেগম এ কাজে সার্বক্ষণিক সহায়তা করেন । ব্যবসার লাভ প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকার গোবর কিনতে হয় তাকে। আর এই গোবর থেকে তৈরি প্রতি মণ কেঁচো সার (জৈব) সাড়ে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা দরে বিক্রয় হয়। প্রথম মাসে কেঁচো ৩০ হাজার টাকা এবং ৩০ হাজার টাকার জৈব সার বিক্রি করেন। এক বছরে কেঁচো ১ লাখ টাকা এবং ৪ লাখ টাকার সার বিক্রি করেছেন। প্রতি মাসে সার বিক্রি করে নিট আয় হয় ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে খামারে প্রায় ৭ লাখ কেঁচো রয়েছে। অবস্থার পরিবর্তন অভাব হান্নানকে সবসময় তাড়া করতো। সেই হান্নান কেঁচো সার উত্পাদনের খামার দিয়ে স্বাবলম্বী হবার পাশাপাশি সংসারেও এনেছেন পরিবর্তন । নিজে স্কুলে যেতে না পরলেও সন্তানদের প্রতি নজর দিয়েছেন। ২ মেয়ে ৫ম শ্রেণির হাসনা বানু, ৩য় শ্রেণির হানিফা বানুর হ্যারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করতে সমস্যা হয়। তাই ৫৫ হাজার টাকায় সৌর বিদ্যুতের প্লান্ট নিয়েছেন। ছেলে তুহিন সবার ছোট। গোবর যাতে কিনতে না হয়। এ জন্য উন্নত জাতের গরু কিনেছেন। বন্ধক নিয়েছেন আবাদি জমি। কর্মসংস্থান কেঁচো সার উত্পাদন খামারে ৪ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। কর্মচারীদের প্রতিমাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা বেতন দেন। কর্মচারী পুষ্পরানী সাহা, ফারুক মিয়া, সুফিয়া বেগম ও আয়নাল বললেন, ‘এখানে কাম করি হামরাও দিন ভালই যাওচে।’ বিষ্ণুপুর গ্রামের জলিল, বকুল, আল-আমিন, ফিরোজ, শ্রীরামপুরের তাহের, নওশা, মজন, কুদ্দুসসহ অনেকেই এ ব্যবসা করেন। শ্রীরামপুরের কৃষক আজগার, শফিকুল, হামিদপুরের খালেক জানান, কম দামে হান্নানের কেঁচো সার প্রয়োগে ফসলের ভালো ফলন পেয়ে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছি। জমিও উর্বর হচ্ছে। এ সার দিয়ে সবজি জাতীয় ফসল ভাল হয়। কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, একটি স্ত্রী কেঁচো ২৪ ঘন্টায় ১টি ডিম দেয়। ১টি ডিম থেকে ২/৪টি বাচ্চা হয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২ সপ্তাহ। কেঁচো শীতকালে সাধারণত ডিম দেয় না। আইএপিপির প্রশিক্ষণ নিয়ে হান্নানের মতো উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকরা কেঁচো সার তৈরি করে জমিতে ব্যবহার এবং বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন।