ঢাকাসহ তিন জেলায় জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু আজ
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২০
ঢাকা মহানগরসহ তিন জেলায় জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু হচ্ছে আজ বুধবার। আগামী ১৫ দিন এ কার্যক্রম চলবে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৭০ লাখ জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ করা হচ্ছে। প্রথম দফায় ঢাকা, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলায় তথ্য সংগ্রহকারীদের মাধ্যমেই পরিচয়পত্র বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেয়া হবে। ভোটারের স্লিপ না থাকলেও পরিচয় নিশ্চিত হলে পাওয়া যাবে পরিচয়পত্র। অক্টোবরে সারাদেশে বিতরণ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ও সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক পৃথকভাবে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ জানান, তথ্য সংগ্রহকারীদের মাধ্যমেই পরিচয়পত্র বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হবে। অক্টোবরে জেলা-উপজেলা (সারাদেশে) বিতরণ শুরু হবে। আশা করছি ওই মাসে বিতরণ শেষ হবে। বিভিন্ন সময়ে যারা ভোটার হয়েছেন কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র নেননি সেইসব অবিতরণকৃত কার্ড একই সঙ্গে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা দুই সপ্তাহব্যাপী প্রত্যেক ভোটারের বাড়ি গিয়ে পরিচয়পত্র বিলি করতে উপজেলা নির্বাচন অফিসকে নির্দেশ দিয়েছি। যদি ভোটার বাড়িতে না থাকে তাহলে তাদের প্রতিনিধিরা কার্ড সংগ্রহ করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, যদি কোন ভোটার কার্ড সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে পরবর্তীতে তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে পারবে।
এদিকে গতকাল সচিবের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক জানিয়েছেন, বিদ্যমান ভোটার তালিকায় দ্বৈত ভোটার বা ভুয়া ভোটার থাকার কোন সম্ভাবনা নেই। ভোটার তালিকা নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোটার তালিকায় ভুল বলতে তারা কি বোঝাতে চেয়েছেন সেটা পরিষ্কার নয়। কারণ নামের বানান ও মুদ্রণজনিত ছোটখাটো ভুল থাকতে পারে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই ভুয়া ভোটার বর্তমান তালিকায় নেই।
মোহাম্মদ সাদিক সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে বুধবার থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু করবে। ২৬ সেপ্টেম্বর দেয়া হবে ফরিদপুরে। যারা পরিচয় পত্র সংগ্রহ করতে পারবে না তারা থানা অথবা উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে তাদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।
কারো ভোটার হওয়ার স্লিপ হরিয়ে গেলে তাদের পরিচয়পত্র দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হরিয়ে গেলে তাদের দেয়া হবে না বিষয়টি এমনটি না। তবে ব্যক্তির ছবি ও স্বাক্ষর দেখে দেয়া হবে। ব্যক্তি যদি বাড়িতে না থাকে তাহলে তার পরিবারের যে কেউ পরিচয় দিয়ে পরিচয়পত্র গ্রহণ করতে পারবেন। নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরিতে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ জাতীয় পরিচয়পত্র অডিট করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই কমিশন অডিট করবে তবে তা করার এখনো সুযোগ হয়নি।
ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা জেলায় ৫ লাখ ৮ হাজার ৪৬৫ জন ও ঢাকা মহানগরে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬০ জন, গাজীপুরে ১ লক্ষ ৭০ হাজার ৮শত ৪৪ ও মানিকগঞ্জে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ১ শত ২০ জন নতুন ভোটার তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন।
৩১ অক্টোবরের মধ্যে সারাদেশে পরিচয়পত্র বিতরণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এরপরও প্রয়োজন হলে সময় বাড়ানোর কথা ভাববে কমিশন। ৩১ অক্টোবরের মধ্যেও যারা পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন না, তাদের ইসি বা জেলা বা উপজেলা অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোট দিতে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এছাড়া কোনো নাগরিক সেবা নিতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলকও করা হয়নি।
২০০৭ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা কার্যক্রম হাতে নেয়ার সময় ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার এই কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ৯ কোটি ২১ লাখেরও বেশি নাগরিক ভোটার তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে গতবছর হালনাগাদের সময় ৭০ লাখের বেশি ভোটার অন্তর্ভুক্ত হন তালিকায়। আগে বিতরণ না হওয়া ২০ লাখসহ প্রায় ৯০ লাখ ভোটারের হাতে এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র পৌঁছেনি। বর্তমানে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীরাই জাতীয় পরিচয়পত্র পান। তবে সমপ্রতি সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার বিধান রেখে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন সংশোধন করা হয়েছে। আর্মি প্রিন্টিং প্রেসে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাপানোর কাজ চলে। প্রতিটি পরিচয়ত্রপত্র তৈরি ও বিতরণে ইসির খরচ হচ্ছে ৩ টাকা হারে। সে হিসেবে মোট খরচ হচ্ছে ২ কোটি ১০ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৩ টাকা।