২০১৩ সালের জুলাইয়ে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে ৮৬৫ জন খালাসি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কয়েক দফায় অনিয়মের অভিযোগে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া থেমে যায়। তবে নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু বুঝে ওঠার আগেই তড়িঘড়ি করে নিয়োগ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।
রেলের বহুল আলোচিত এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের কোটা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন থমকে থাকার পর হঠাত্ করে গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থের বিনিময়ে বেশিরভাগ প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে- এই অভিযোগ চাকরি বঞ্চিতদের। এরমধ্যে নিয়োগ কমিটির আহবায়ক ও প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ফল ঘোষণার পরপরই দেশের বাইরে যাওয়ায় বিতর্ক জোরালো হয়েছে। যদিও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সৈয়দ ফারুক আহমদের দাবি, স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। সব ধরনের কোটাও মানা হয়েছে। তিনি কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাননি।
রেলওয়ের একাধিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা হওয়ার পর নিয়োগ চূড়ান্ত করতে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। পরে সে সময় নিয়োগ থমকে যায়। ২০১৮ সালে একই অভিযোগ তুলে রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলন করে। রেলওয়ের পূর্ববর্তী জিএম আব্দুল হাই সে সময় মন্ত্রী-এমপিসহ দলীয় নেতাদের সুপারিশের ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দিতে চাপ সৃষ্টির কথা রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জানিয়েছিলেন। তার এমন বক্তব্যে নিয়োগ সিন্ডিকেট ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে পূর্বাঞ্চল থেকে সরিয়ে দেয়। এরপরেই তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বর্তমান জিএম সৈয়দ ফারুক আহমদ দায়িত্ব পান বলে গুঞ্জন আছে।
২০১৩ সালের ৪ জুলাই খালাসি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে নিয়োগ কমিটির আহবায়ক ও আরটিএর সিনিয়র ট্রেনিং অফিসার জোবেদা আক্তারকে সদস্যসচিব করা হয়। আরো দুজন সদস্য থাকলেও তাদের একজন মারা গেছেন, আরেকজন অন্য দপ্তরে চলে গেছেন।
গত শনিবার নিয়োগের ফল প্রকাশের পর চাকরি-বঞ্চিতরা অভিযোগ করছেন, একদিকে জিএম পরিবর্তন হয়েছে, অন্যদিকে মন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে। যে সিন্ডিকেটের আশীর্বাদে পূর্বাঞ্চলের জিএম এখানে এসেছেন তারাই মূলত অর্থ লেনদেনের কাজটি করেছেন। নতুন মন্ত্রী সবকিছু বুঝে ওঠার আগেই জিএম’র প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে নিয়োগ কমিটির আহবায়ক ও সদস্যসচিব মিলে তড়িঘড়ি করে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগকৃতদের তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। বিষয়টি দুদকের তদন্ত করা উচিত।
রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হুমায়ুন কবির ইত্তেফাককে বলেন, আলোচিত এই নিয়োগে স্বচ্ছতার দরকার ছিল। কিন্তু কোন্ কোটা কতটুকু মানা হয়েছে তার কোনো তথ্য নেই। ইতিমধ্যে মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। উনি খোঁজ নিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। রেলওয়ে সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মোখলেছুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, কোটা মানা হয়েছে কিনা তদন্ত করা উচিত। মন্ত্রী ভালো মানুষ হওয়ার সুযোগটি কর্মকর্তারা কাজে লাগিয়েছেন। কে কত টাকা লেনদেন করেছেন তদন্ত হওয়া উচিত।