কাউন্সিলের জন্য আরো আট মাস সময় চাইলো বিএনপি
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৩
বর্তমান সরকারের মেয়াদে জাতীয় সম্মেলন (কাউন্সিল) করতে চায় না প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এজন্য আগামী ২০১৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময় চেয়েছে দলটি। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছে দলটি। দলের পক্ষে যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি এই আবেদন করেছেন। প্রসঙ্গত, এ ব্যাপারে এর আগে আরো দুই দফা সময় নিয়েছে দলটি।
গতকাল ইসি কার্যালয়ে আসা বিএনপি প্রতিনিধি দলের প্রধান দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি অফিসে পুলিশের হামলা ও ভাংচুরে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খোয়া যাওয়ায় ও নেতারা জেলে থাকায় এই মুহূর্তে দলের কাউন্সিল করা সম্ভব নয়। সময় চেয়ে ইসিতে পাঠানো চিঠিতেও এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর পর দলের জাতীয় সম্মেলন করে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা থাকলেও বিএনপি তা করেনি। দলের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সরকারের শেষ পার্যায়ে এসে যখন তারা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন সম্মেলন করলে নেতৃত্ব নিয়ে দলে কোন্দল হতে পারে। এ আশঙ্কা থেকে আপাতত সম্মেলন করতে চায় না বিএনপি।
বিএনপির শেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর। সে হিসেবে কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল ২০১২ সালের ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে। তখন করতে না পেরে নির্বাচন কমিশনের কাছে পর পর দুই দফায় সময় নেয় দলটি। এবার আবারও সময় চেয়ে আবেদন করলো বিএনপি।
রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আমাদের কাছে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির তালিকাসহ হালনাগাদ তথ্য চেয়েছে। বাধ্যবাধকতা না থাকলেও আইন অনুযায়ী আমরা সে তথ্য দিতে বাধ্য। কিন্তু আমরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন করতে না পারায় আগামী ৩১ মে পর্যন্ত সময় চেয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আরপিওর ৯১ এর ই ধারা বলে ইসি তাদের ক্ষমতা রাখতে নারাজ। তারা নিজেদের ক্ষমতা অন্যের হাতে দিতে চায়। নির্বাচন কমিশন যদি স্বেচ্ছায় নিজেদের ক্ষমতা নিজেরাই অন্যকে দিয়ে দেয় তাহলে আমরা তাদের আজ্ঞাবহ বলতে বাধ্য হবো।
প্রসঙ্গত, আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর কাউন্সিল করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে প্রতিবছর দলগুলোর হালনাগাদ তথ্য চেয়ে কমিশন থেকে চিঠি দেয়া হয়। সে অনুযায়ী দলগুলো কাউন্সিলসহ হালনাগাদ তথ্য কমিশনকে সরবরাহ করে থাকে।
এর আগে গত ৩ জুলাই জাতীয় পার্টি (এ) মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার দলের কাউন্সিলের জন্য ৬ মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে ৪ জুলাই কমিশন সচিবালয় থেকে জাতীয় পার্টিকে (এ) পাল্টা এক চিঠি দিয়ে জানানো হয়, কে, কখন, কিভাবে কাউন্সিল করবে, সে ব্যাপারে কমিশনের আইনগত কোন কিছুই করার নেই।