হাতিয়ার দুর্ধর্ষ জলদস্যু সর্দার এমরান সহযোগী জসিমসহ নিহত
নোয়াখালী প্রতিনিধি ও হাতিয়া সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৩
গ্রেফতার হবার পর পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়া উপকূলীয় এলাকা হাতিয়ার দুর্ধর্ষ জলদস্যু বাহিনীর প্রধান এমরান ও তার ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ জসিমউদ্দিন পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ও পরে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে। আহত অবস্থায় তাদের সহযোগী ‘কমান্ডার’ সাধু মাঝিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ সময় একজন ইন্সপেক্টরসহ ৫ পুলিশ আহত হয়।
সোমবার রাতে বয়ারচরে আলী বাজার ও দরবেশ বাজারের মধ্যস্থলে বেড়িবাঁধের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে ১টি বন্দুক, ৬ টি গুলি ও ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করে।
নোয়াখালী ইউনিয়নের চর উড়িয়া এলাকার ডাকাতি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হাতিয়ার এমরান, বরগুনার আমতলীর জসিমউদ্দিন, ভোলার বোরহানউদ্দিনের শরিফ চাঁদ ও হাতিয়ার আকরাম হোসেন সেন্টুকে রবিবার চট্টগ্রামের বায়োজিদ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে সুধারাম থানায় আনা হয়। পরদিন সোমবার সকালে পুলিশ এমরান ও জসিমউদ্দিনকে বুক ও পেটের ব্যথায় চিকিত্সার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে পথে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়। ঐ দিন সন্ধ্যায় পুলিশ জানতে পারে পলাতক দস্যুরা বয়ারচরের বেড়িবাঁধের পাশে অবস্থান করছে। পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ও সদর এএসপি নিষ্কৃতি চাকমার নেতৃত্বে পুলিশ লাইন, চরজব্বার থানা ও হাতিয়া থানার পুলিশ রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে এমরান নিহত হয়। স্থানীয় জনতা ঘেরাও দিয়ে জসিমউদ্দিন ও সাধু মাঝিকে ধরে গণপিটুনি দেয়। জসিমউদ্দিন ঘটনাস্থলে মারা যায়। রাতে নিহতদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আনা হয়। আহত সাধু মাঝি হাতিয়া থানার পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। নিহত এমরান হাতিয়া উপজেলার মেঘপাশা গ্রামের কামালউদ্দিনের পুত্র ও জসিমউদ্দিন বরগুনা জেলার আমতলী থানার শরতগাঁথি গ্রামের আবদুল ওয়াবের পুত্র। দুটি মামলা করেছে পুলিশ।
এমরান বাহিনীর প্রধান এমরানের বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ১৪ টি মামলা রয়েছে। গত ২৭ আগস্ট হাতিয়া উপকূলীয় এলাকায় বন ও জলদস্যু দমনে পুুলিশী অভিযান শুরু হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে ও গণপিটুনিতে সাত দস্যু নিহত হবার পর এলাকা থেকে এমরান ও তার বাহিনী পালিয়ে যায় বলে হাতিয়া থানার ওসি খোরশেদ আলম জানান।
এমরান ডাকাতের নিহতের খবর শুনে হাতিয়া উপকূলীয় এলাকার জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার সকালে কয়েক হাজার জেলে হাতিয়ার জাহাজমারা বাজারে আনন্দ মিছিল করেছে।