‘আর্থিক সুবিধা ছাড়াই কাজ করে দেব’ : আকরাম খান

প্রায় পাঁচ বছর পর অবশেষে অনুমিতভাবেই শেষ হতে যাচ্ছে নির্বাচক আকরাম খানের যুগ। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলর হিসাবে নাম পাঠানো হয়েছে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক আকরাম খানের। সাবেক এই অধিনায়ক এখন প্রধান নির্বাচক পরিচয়টাকেও সাবেক করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হওয়ার পথে আছেন। সে উপলক্ষে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিসিবির কাছে পদত্যাগপত্রও জমা দিয়েছেন। আজ বোর্ডসভায় তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি। তার আগে গতকাল মিরপুরে সাংবাদিকদের নিজের অবস্থান ও পরিকল্পনার কথা বললেন আকরাম খান— চট্টগ্রাম থেকে কেন কাউন্সিলরশিপ নিলেন? আপনার তো খেলোয়াড় কোটায় কাউন্সিলর হওয়ার সুযোগ ছিল। আমি খেলোয়াড় কোটায় এনএসসি থেকে কাউন্সিলরশিপ নিয়ে এলে আমার এলাকা চট্টগ্রামের প্রতি অতটা টান হয়তো থাকতো না। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জেতার পর চট্টগ্রামে আমাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। তখনই আমি বলেছিলাম যে, এখানকার ক্রিকেটের ভালোর জন্য যা কিছু প্রয়োজন করবো। এরপরও আমি খেলেছি এবং জাতীয় দলের নির্বাচকও ছিলাম। এখন যেহেতু সুযোগ এসেছে, আমি চাচ্ছি চট্টগ্রামের জন্য কিছু করি। যখন আমি চট্টগ্রামে যাই, মানুষ আমার কাছে অনেক দাবি করে। আমি মনে করি এটা একটা সুযোগ ওখানকার ক্রিকেট নিয়ে কাজ করার। তাহলে আপনি কী মনে করেন আগের কমিটি পর্যাপ্ত কাজ করেনি? আমি আগের কমিটি নিয়ে কিছু বলবো না। আমার যে পরিকল্পনা ছিল, ইচ্ছে ছিল সেটাই করছি। সবার যদি সহযোগিতা থাকে তাহলে চিটাগং থেকে ভালো খেলোয়াড় বের করে আনার চিন্তা আছে। চট্টগ্রাম থেকে এর আগে এক্সট্রা অর্ডিনারি সব খেলোয়াড় বেরিয়েছে; যেমন নান্নু ভাই, নোবেল ভাই, তামিম, নাফিস ইকবাল। এদের মতো প্লেয়ার বের করার ইচ্ছে আছে আমার। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলর হলেন। ওখান থেকে তো আপনার ভগ্নিপতি সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর হতে চেষ্টা করেছেন? আত্মীয় বা বন্ধু কোনো বিষয় না। কথা হলো আমরা কার জন্য কাজ করছি। আমি প্রতিনিধি হয়েছি চট্টগ্রাম বিভাগের। আজ আমি এসেছি, কাল আরেকজন আসবে। এটা নিয়ে অত ভাবার কিছু নেই। চট্টগ্রামের জন্য কাজ করছি কিনা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার কাউন্সিলরশিপ চ্যালেঞ্জ করে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে শোনা গেছে.. আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি, বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাউন্সিলর হয়েছি। এটা যদি বৈধ প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে তাহলে থাকবো। আর যদি না হয় তাহলে আমার থাকার কোনো দরকারও নেই। যতটুকু জানি, আমরা যেভাবে এসেছি গঠনতন্ত্রে সেভাবে আছে। নির্বাচক হিসাবে জাতীয় দলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কটা তাহলে আপাতত শেষই হয়ে গেল? আমি গত ১৮ তারিখ পদত্যাগপত্র দিয়েছি মাননীয় সভাপতির কাছে। এখন সেটা গ্রহণ করা না করা, তাদের ব্যাপার। আমার বর্ধিত চুক্তির মেয়াদ এ মাসেই শেষ হবে। এরপর আমি চুক্তিতে থাকবো না। তবে যেহেতু সামনে নিউজিল্যান্ড সিরিজ আছে এবং নান্নু ভাই হজ্বে যাচ্ছেন, তাই এখন বোর্ড যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে আমি আর্থিক সুবিধা ছাড়াই কাজ করে দেব। কারণ আমি নির্বাচনে যুক্ত হবো। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের জন্য জাতীয় দল কবে ঘোষনা হবে? এক-দুইদিন দেরি হতে পারে। হোমে খেলা, সময় আছে। তবে কাল-পরশুর মধ্যে দিয়ে দেব। এই সিরিজে আপনি নির্বাচক থাকছেন তাহলে? বোর্ড থেকে আমার কাছে অনুরোধ আছে। এই সিরিজটা থাকবো। কিন্তু কোনো ধরনের চুক্তিতে থাকবো না। জাতীয় দলে নতুন কোনো চমক থাকবে? শুরু থেকে খুব বেশি পরিবর্তন আমি চাইনি। আমাদের দলে খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৫ বছর। আরও ৮-১০ বছর খেলতে পারবে। পরিবর্তন কিছু হলেও খুবই কম হবে। বোর্ড পরিচালক হতে পারলে আপনার প্রধান লক্ষ্য কী থাকবে? যদি বোর্ডে আসতে পারি তাহলে ইচ্ছে আছে তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার। যেমন আমাদের ফাস্ট বোলিং নিয়ে খুবই সমস্যা সেটা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা আছে। স্কুল ক্রিকেট আছে। ইনশাল্লাহ যদি আমি হই তাহলে করার চেষ্টা করব। যতকিছুই বলি নির্বাচকের কাজে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। ওখানে বেশি কিছু করার থাকে না। জাতীয় দল যে পারফরমেন্স করেছে, তাতে করে খুব সহজেই প্রধান নির্বাচক হিসাবে আগামী দুই বছর থাকতে পারতাম। কিন্তু আমি আরও বেশি কিছু করতে চাই।