যমুনা সেতু-হাটিকুমরুল সড়ক যেন মরণ ফাঁদ
ফজল-এ-খোদা লিটন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৩
সিরাজগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়লেও তা রোধে কার্যকর কোন উদ্যোগে নেই। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পশ্চিম গোল চত্বর থেকে সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ মহাসড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই সড়কে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসে এই সড়কে ৫৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকেই।
জানা গেছে, সেতুর পশ্চিম এলাকা থেকে হাটিকুমরুল গোল চত্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার মহাসড়কের কড্ডার মোড়, ঝাঔল ওভারব্রিজ ও পাঁচলিয়া এলাকা অধিক দুর্ঘটনা প্রবণ। মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও ওভার ব্রীজ না থাকা, চলাচলকারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি, বাসের ছাদে যাত্রী উঠানো, দুর্বল ট্রাফিক সিগনাল পদ্ধতি, অবৈধ নসিমন-করিমন চলাচল আর চালকদের অসতর্কতার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে সংশ্লি¬ষ্টরা মনে করেন। এছাড়া ব্যস্ততম এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে কয়েক ডজন সংযোগ সড়কসহ বেশ কয়েকটি বাজার। কিন্তু এইসব স্থানে নেই কোন স্পিডব্রেকার। বিশেষ করে সড়কগুলোতে কোন রোড ডিভাইডার না থাকায় চালকরা ইচ্ছা মাফিক ওভারটেক করতে গিয়েই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
পরিসংখ্যানগত দিক থেকে সেতুর পূর্ব পাড়ের চেয়ে পশ্চিম পাড়ের এই সড়কে দুর্ঘটনার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটিতে রোড ডিভাইডার ও ওভারব্রীজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। এ দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও স্থানীয় প্রশাসন এখনো তা বাস্তবায়ন করেনি। সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের বক্তব্য, সেতুর দুই প্রান্তের সড়কগুলো ৪ লেনে উন্নিত এবং বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ওভার ব্রীজ স্থাপন করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। সড়কটির প্রশস্ততা বাড়িয়ে সড়কের মাঝ দিয়ে ডিভাইডার নির্মাণের দাবিও জানিয়েছে এলাকাবাসী।
সড়কে দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক ট্রাফিক সার্জেন্ট এর সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘন জনবসতির পাশাপাশি সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্টে মারাত্মক বাঁক থাকায় সামনের যানবাহন অনেক সময় চালকদের পক্ষে দেখা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে এ সড়কে ঝাঐল রেলওয়ে ওভার ব্রিজের বাঁকটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ ব্রিজের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের যানবাহন দেখা যায় না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
সিরাজগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আলী ফরিদ জানান, আমরা প্রায়ই সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ দিয়ে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। দুর্ঘটনা রোধে চালকদের আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।