সংস্কৃতি-সংবাদ
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৫০
কবি মহাদেব সাহা গুরুতর অসুস্থ
দেশের অন্যতম প্রধান কবি মহাদেব সাহা গুরুতর অসুস্থ হয়ে সম্প্রতি রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি প্রস্টেট এবং কিডনি সংক্রান্ত রোগে ভুগছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কবিকে হাসপাতাল থেকে বাসায় স্থানান্তর করতে হয়েছে কেবল অর্থ-সংকটের কারণে। সত্তরোর্ধ্ব এই কবি ৬০ দশকের কবিদের মধ্যে অন্যতম। শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের রাজপথ কাঁপানো সৈনিক কবি মহাদেব সাহা বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
স্বভাবে অন্তর্মুখী এই কবি প্রেমের কবি বলে সর্বজন স্বীকৃত। তাঁর জনপ্রিয় প্রেমের কবিতাগুলোর মধ্যে ‘চিঠি দিও’ অন্যতম। আজও কবিতাপ্রেমীদের মুখে মুখে ফিরে এই কবিতার পঙিক্তগুলো।
ইউডা’র চারুকলা শিল্পচর্চার প্রদর্শনী ও মূল্যায়ন
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) চারুকলা অনুষদের একযুগ পদার্পণ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী ও ইউডা চারুকলা অনুষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। ১১ দিন ব্যাপী এ প্রদর্শনীতে অংশ গ্রহণ করে এক ঝাঁক শিক্ষানবিশ নবীন শিল্পী। ৫০০ নবীন শিল্পীর প্রায় ৬০০ শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে। শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে তেল রং, জল রং, অ্যাক্রেলিক, ডিজিটাল প্রিন্ট, উডকাট, লিথোগ্রাফ এমনকি ফটোগ্রাফিও রয়েছে। নানান মাধ্যমে কাজ করা ছোট বড় বিভিন্ন আকৃতির ফ্রেম শোভা পাচ্ছে—এ যেন শিল্পকর্মের এক বিশাল সম্ভার। সব মিলিয়ে এই প্রদর্শনীটি একটি ভিন্ন মাত্রা সৃষ্টি করেছে, যা দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া শিল্পকর্মগুলো দশর্কদের মাঝে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, তা-ই ইউডা চারুকলা অনুষদের আগামী দিনের পথ চলায় প্রেরণা জোগাবে এবং একজন শিল্পী তার সৃষ্টির মূল্যায়ন বুঝতে পারবে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।
১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে আজ শেষ হচ্ছে প্রদর্শনীটি।
চলছে শরতের বইমেলা
শাহবাগের সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থকেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে শরতের বইমেলা। মেলা শুরুর দিনে হরতাল থাকলেও বিকেল থেকেই পাঠক-ক্রেতা, লেখক-প্রকাশকরা জড়ো হন মেলাপ্রাঙ্গণে। বইমেলায় ক্রেতাদের জন্য বিশেষ ছাড়ে বই পৌঁছে দিতে বাংলা প্রকাশ, শোভা প্রকাশ, অনিন্দ্য প্রকাশ, নালন্দা ও বিভাস যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করে। ১০ দিনের এই মেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন অমিকন গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, লেখক বিপ্রদাশ বড়ুয়া, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের ডিজি আলম তালুকদার। শিশুসাহিত্যিক হুমায়ুন কবীর ঢালীর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আহমদ রফিক বলেন, ‘পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় নীলক্ষেত ও নিউ মার্কেট এলাকায় প্রচুর বইয়ের দোকান ছিল। এখন এত বইয়ের দোকান নেই। বর্তমানে পাঠক-ক্রেতা কমে যাওয়ার এটাও একটা কারণ হতে পারে। মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, মেলা চলবে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এই বইমেলা। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে খোলা থাকবে সকাল ১১ টা থেকে-রাত ৮টা পর্যন্ত। মেলা থেকে ৩০ শতাংশ ছাড়ে বই কেনা যাবে বলেও জানায় আয়োজক কমিটি।