হজ্বযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৫২
আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল হাজ্জা ফাইয়াছিছরহু লী ওয়া তাক্বাব্বালহু মিন্নি। আরবী মুখস্থ না থাকলে বাংলায় নিয়ত করবেন ঃ ইয়া আল্লাহ আমি একটি হজ্ব পালন করার নিয়ত করলাম, আমার জন্য এটি সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন। সঙ্গে সঙ্গে তিনবার তলবিয়াহ পাঠ করুন ঃ লাব্বাইকা আল্লাহুমা লাব্বাইক— লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইক-ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা—লাকা ওয়াল মুলক্-লা শারীকা লাক্। এখন থেকে সারাক্ষণ এই তালবিয়াহ মন দিয়ে জোরে জোরে পড়তে থাকবেন। এক্ষনে আপনার হজ্বের ইহরাম বাঁধা হয়ে গেল। অতঃপর ঘরে ফিরে এসে মুয়াল্লিমের নির্ধারিত ব্যবস্থায় নয়নাভিরাম তাঁবুর রাজ্য মিনায় গমন করুন। ৮ই জিলহজ্ব মিনায় কোন নির্ধারিত কাজ নেই। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফায়ার প্রুফ তাঁবুতে খাওয়া-দাওয়া করবেন এবং যোহর, আসর, মাগরীব, এশা ও ফজরের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করবেন। সম্ভব হলে জমরা অর্থ্যাত্ শয়তানকে কংকর মারার স্থান গুলো দেখে নেবেন। এখন হাজীদের সুবিধার্থে সৌদি সরকার হাজার হাজার কোটি রিয়াল ব্যয় করে চলন্ত সিঁড়ি, অত্যাধুনিক বহুতল দালান নির্মাণ করে শয়তানের প্রতীকি স্তম্ভগুলিকে বিশাল আকৃতির বিলবোর্ড বা নৌকার পালের মত বড় করে দিয়েছেন। কংকর মারতে গিয়ে এখন আর হুড়াহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে অথবা ফ্লাইওভারের রেলিং ভেঙ্গে পড়ে মৃত্যু তো দূরের কথা—এখন হাজীদের গায়ে গায়ে লাগার সম্ভবনাও ক্ষীণ। ৯ই জিলহজ্ব ফজরের নামাজের পর পরই আইয়্যামে তাশরিক শুরু। অর্থাত্ তকবীরে তাশরিক (যা ১৩ই জিল হজ্ব আছরের ফরজ নামাজের পর শেষ হবে)। ফজরের ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ হাজিগণ উচ্চৈঃস্বরে ও মহিলা হাজীগণ মনে মনে তিনবার পাঠ করবেনঃ আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার—লাইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার— ওয়ালিল্লাহিল হামদ। এখন থেকে প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে ৩ বার তকবীরে তাশরিক ও পরে তিন বার তালবিয়াহ পাঠ করবেন। অতঃপর মোয়াল্লিমের ব্যবস্থাপনায় অথবা কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত উড়াল ট্রেনযোগে আরাফাতে গমন করবেন। (উড়াল ট্রেনে চড়তে হলে ২৫০ সৌদি রিয়াল দিয়ে অগ্রিম টিকেট করতে হবে) আরাফার ময়দানে যোহরের নামাজের পূর্বে সম্ভব হলে গোসল করে নেবেন। এই গোসলের সময় গামছাটি সাদা লুঙ্গীর ওপর জড়িয়ে নেবেন। এবং মোয়াল্লিম কর্তৃক সরবরাহকৃত প্যাকেট লাঞ্চ দ্বারা যোহরের পূর্বে দুপুরের খাবার খেয়ে নেবেন। হজ্বের প্রধান রোকন ঃ অকুফে আরাফা ঃ বা হজ্ব ঃ ৯ই জিল হজ্ব অকুফে আরাফার সময় হলো যোহরের নামাজের পর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। মূলতঃ হজ্ব বলতে এই অকুফে আরাফাকেই বুঝায়। এখানে নিজ নিজ তাঁবুতে আযান একামতসহ জামাতে যোহরের নামাজ আদায় করবেন। যোহরের নামাজের সালাম ফিরানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ হাজীগণ দাঁড়িয়ে যাবেন। দাঁড়িয়ে অকুফ করা সুন্নত। মাহিলা হাজীগণ পুরুষের পিছনে বসে বসে অকুফ করবেন। অতঃপর তিন বার তকবিরে
তাশরিক এবং ৩ বার তালবিয়াহ পড়বেন। অন্য কোন লফল নামাজ পড়বেন না।
তারপর ১০০ বার নিম্ন দোয়াটি পড়বেন ঃ লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু-ওয়াহুয়া আলা কুল্লী সায়ইন ক্বাদির।
১০০ বার ঃ কুলহু আল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ, লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউ লাদ, ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুআন আহাদ। ১০০ বার ঃ আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মোহাম্মদ—ওয়ালাআলি মোহাম্মদ-কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিম-ওয়ালা আলি ইবরাহিম—ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
প্রিয় হাজী সাহেবান, এ সকল তসবীহ, তাহলীল ও দরূদ শরীফ পাঠ করার সময় আল্লাহ জাল্লা শানুহু যিনি এদিন প্রথম আসমানে অবস্থান করেন—তিনি ফেরেশ্তাদের উদ্দেশে বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ! আমার এই বান্দাদের কি প্রতিদান হতে পারে, যারা আমার তসবীহ, তাহলীল, তামজীদ বর্ণনা করেছে ও যারা আমার নবীর উপর দরূদ পাঠ করেছে? অতঃপর তিনি নিজেই এরশাদ করেন, “হে আমার ফেরেশতাগণ তোমরা সাক্ষী থেকো, আমি গাফুরুর রাহীম তাদের ক্ষমা করে দিলাম। তাদের নিজের ব্যাপারে তাদের সুপারিশ কবুল করলাম এবং আমার বান্দারা যদি সমগ্র মক্কাবাসীর জন্যও সুপারিশ করে, তা হলেও আমি তা কবুল করলাম এবং আমার বান্দারা যদি সমগ্র মক্কাবাসীর জন্যও সুপারিশ করে, তা হলেও আমি তা কবুল করব”। তখন ফেরেশ্তাগণ আল্লাহর দরবারে আরজ করে বলেন, “ইয়া আল্লাহ এখানে তো বিশ্ব পাপি নারী ও পুরুষ রয়েছে”। তখন আল্লাহ জাল্লা শানুহু বলেন, “আমি তাদেরও মাফ করে দিলাম”। এ সকল তাসবীহ, তাহলীল, তামজীদ ও দরূদ পাঠ করা ছাড়া অন্যান্য দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াত করে বিগলিত অন্তরে কান্না কাটি করে মোনাজাতের মধ্যে দিনটি অতিবাহিত করুন। স্মরণ করুন, এটিই হবে হাশরের ময়দান। আর এ ময়দানে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং কাজী হয়ে বান্দার নেকী ও বদির, পাপ-পূণ্য হিসাব নেবেন। কাজেই এখানে একটি বেহুদা কথাও না বলে নিজের, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, এই লেখক সহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও বাংলাদেশের জন্য দোয়া করবেন। আছরের সময় হলে তাঁবুতে আযান ও একামতের সাথে জামাতের সাথে শুধু আছরের ফরজ নামাজ পড়বেন।
(সংক্ষেপায়িত)