বেলুচিস্তানে সাহায্যের অপেক্ষায় ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া মানুষেরা

মানবেতরভাবে রাত্রি যাপন করছে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে বেলুচিস্তান প্রদেশে ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো। গত মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপকতায় ধূলোয় মিশে গেছে তাদের মাটির তৈরি ঘরগুলো। তাই কোন রকমে ছোট ছোট লাঠি আর বিছানার চাদর দিয়ে তাঁবু বানিয়ে তার ভেতরেই দিন অতিবাহিত হচ্ছে দুর্যোগপীড়িত এসব মানুষের। তার ওপর রয়েছে খাদ্যের সংকট। অনেকেই ইট-পাথর খুঁড়ে করছেন খাবারের সন্ধান। একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে পড়া এ এলাকায় সেভাবে কোন ত্রাণ প্রচেষ্টাও লক্ষ্য করা যায়নি। তাই অতিসত্বর যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হয় এজন্যই এখন অপেক্ষা ঐ মানুষগুলোর। মঙ্গলবার দেশটির জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা এ পর্যন্ত ৩৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বলা হচ্ছে, এ সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০০ জনে পৌঁছেছে। রিখটার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার প্রবল ভূমিকম্পে বেলুচিস্তান প্রদেশের আওয়ারান জেলার বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় এবং ভঙ্গুর অবকাঠামো ব্যবস্থার ফলে ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে পড়েছে। ক্ষুধার্ত মানুষজন মাটি খুঁড়ে, ইট-পাথরের ফাঁকে ফাঁকে খুঁজে ফিরছে একমুঠো খাবার। এখন তাদের শুধু দিন গোনা কখন আসবে তাদের জন্য একটু খাবার, একটু সাহায্য। জানা গেছে, ডালবাদি গ্রামে ৩০০ মাটির ঘর-বাড়ি একেবারে গুঁড়িয়ে গেছে। নূর মোহাম্মদ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি তখন কাজ করছিলাম। এসময় ভূমিকম্প আঘাত হানলো। দেখলাম আমার বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একইসাথে সেই একটু সময়ের কম্পন কেড়ে নিয়েছে আমার স্ত্রী ও ছেলেকে।’ ‘আমি ভেঙ্গে গেছি। আমি হারিয়ে ফেলেছি আমার পরিবারকে’ বলেন নূর। এদিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জনবলের অভাব থাকা সত্ত্বেও ভূমিকম্পে আহত এই গ্রামের মানুষজনকে চিকিত্সা দিয়ে যাচ্ছে চিকিত্সকরা। প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র জান মোহাম্মদ বুলাইদি জানান, আমাদের অনেক তাঁবু প্রয়োজন, দরকার আরো আরো ওষুধ আর খাবার। ওদিকে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে ঐ দুর্গত এলাকায় এক হাজার সৈন্য প্রেরণ করা হয়েছে। সে সাথে পাঠানো হয়েছে হেলিকপ্টার। বুধবার সকালেই ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে ত্রাণ নিয়ে ৬০টি সেনা ট্রাকের একটি বহর বন্দর শহর করাচি থেকে ছেড়ে গেছে।