দেখা হয় নাই

দুর্গা সাগর দীঘি

বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই আজকের আয়োজনে থাকছে একটি দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো বরিশালের দুর্গা সাগর দীঘি-এর কথা। এককালে বরিশালের পরিচিতি ছিল প্রাচ্যের ভেনিস হিসেবে। শস্য আর সম্পদে ভরপুর ছিল বাংলার এই দক্ষিণাঞ্চল। আর এ কারণেই সে সময়ে বর্মি আর পর্তুগিজ জলদস্যুদের লুণ্ঠনের শিকার হতে হতো এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চন্দ্রদ্বীপ রাজবংশের কীর্তিমান পুরুষ রাজা রামচন্দ্র শ্রীনগর (মাধবপাশায় ) চন্দ্রদ্বীপের (প্রাচীন বরিশাল) রাজধানী স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। রামচন্দ্রের সেই রাজত্ব আর রাজবাড়ির তেমন কিছু এখন আর দেখা না গেলেও কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে কয়েকটি দীঘি। আর সেই দীঘিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দীঘিটি হলো দুর্গা সাগর। এটি শুধু বরিশালেরই নয়, বরং গোটা দক্ষিণাঞ্চলেরই সবচেয়ে বড় দীঘিগুলোর একটি। রাজবংশের রাজা শিব নারায়ণের প্রজাবত্সল স্ত্রী রানী দুর্গাবতী ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে বিশাল এই দীঘি খনন করেছিলেন বলে জানা যায়। আর তার নামেই এই দীঘিটির পরিচিত হয় দুর্গা সাগর নামে যেখানে মূলত দীঘিটির বিশালতা বোঝাতেই যোগ করা হয়েছিল সাগর শব্দটি। বহুদিন থেকেই এ অঞ্চল এবং এ অঞ্চলে বেড়াতে আসা মানুষদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থান হয়ে আছে দুর্গা সাগর দীঘিটি। পর্যটকদের এবং প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এটি চমত্কার একটি স্থান। এখানে রয়েছে বেশ বড় আকারের সিমেন্টের প্রশস্ত ও পরিচ্ছন্ন ঘাটলা এবং দীঘির মাঝে সুন্দর একটি দ্বীপ যেখানে শীতকালে অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে। পাখিদের অভয়ারণ্য এই এলাকা। দীঘির পারে সরু রাস্তা, মাঝে মাঝে বসার বেঞ্চ, ঘন সবুজ বিভিন্ন ধরনের গাছও এই দীঘির সৌন্দর্য বর্ধনে ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া যেসব সৌখিন ব্যক্তি মাছ ধরতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এখানে রয়েছে টিকিট কেটে মাছ ধরার ব্যবস্থাও। বরিশাল থেকে বাসে করে খুব সহজেই আধঘন্টা থেকে এক ঘন্টার মধ্যে আসা যায় এই দুর্গা সাগর দীঘিতে। এজন নথুল¬াবাদ বাস টারমিনাল থেকে বরিশাল বানারিপাড়া অভিমূখী বাস এ করে এসে দূর্গা সাগর নামতে হবে। এ ছাড়া মাইক্রো, প্রাইভেট কার কিংবা স্কুটার যোগেও আসা যায় দুর্গা সাগর দীঘিতে।