ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধভাবে অটো বাইকের ব্যাটারি চার্জ

ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধভাবে অটো বাইকের ব্যাটারি চার্জ দিয়ে বছরে ৩ কোটি টাকার বিদ্যুত্ চুরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন জেলাবাসী। বিদ্যুত্ বিভাগের কিছু অসত্ কর্মকর্তা এই অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগ দিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে তথ্য রয়েছে। সোমবার রাত ৯.৩০ মিনিট। ঠাকুরগাঁও কলেজপাড়া এলাকার একটি রাইস মিলে গিয়ে দেখা যায়, ৩০টি অটো বাইকের ব্যাটারি চার্জ দেয়া হচ্ছে। এক অটো চালককে জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায় একটি অটো বাইকের ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতিদিন ৯০-১০০ টাকা দিতে হয়। সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও শহরে প্রায় ২ হাজার অটো বাইক চলাচল করে। এ সুযোগে কিছু লোক অটো বাইকের ব্যাটারি চার্জ দেয়া ব্যবসা শুরু করেছে। শহরের কিছু রাইস মিল, কারখানা ও বাড়িতে ব্যাটারি চার্জ দেয়া হচ্ছে। জেলা শহরের ৪০টি স্থানে ব্যাটারি চার্জ দেয়া হয়। প্রতিদিন একটি অটো বাইকের ব্যাটারি চার্জ বাবদ ৯০-১০০ টাকা দিতে হয়। একটি অটো বাইকের ব্যাটারি একবার চার্জ দিতে ১৩-১৫ ইউনিট বিদ্যুত্ খরচ হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক বিদ্যুত্ সংযোগে ৭ ইউনিটের বেশি বিদ্যুত্ ব্যবহার করা যাবে না। আর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৯ টাকা। সে হিসেবে একটি অটো বাইক চার্জ দিতে প্রকৃত খরচ ১৪২ টাকা। কিন্তু এখানে একটি অটো বাইক ব্যাটারি চার্জ দিতে মাত্র ৯০-১০০ টাকা লাগে। এতে প্রতিদিন একটি অটো বাইকের ব্যাটারি চার্জ দিতে ৪২ টাকার বিদ্যুত্ চুরি হচ্ছে। ২ হাজার অটো বাইকে ঠাকুরগাঁও শহরে দৈনিক ৮৪ হাজার টাকার বিদ্যুত্ চুরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় মালিক বিদ্যুত্ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজসে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মিনিমাম বিদ্যুত্ বিল করে নেয়। কলেজপাড়া এলাকার এক রাইস মিল মালিক দৈনিক ৩০টি অটো বাইক ব্যাটারি চার্জ দিয়ে দেন। ঐ মিলে দৈনিক বিদ্যুত্ খরচ হয় ৪৫০ ইউনিট। ঠাকুরগাঁও শহরে প্রতিদিন অটো বাইকের ব্যাটারিগুলো চার্জ দিতে ২২ হাজার ইউনিট বিদ্যুত্ খরচ হয়। অতিরিক্ত বিদ্যুত্ ব্যবহারের ফলে যেসব এলাকার অবৈধ সংযোগ রয়েছে সে এলাকার প্রায়ই ট্রান্সফরমার বিকল হচ্ছে। ফলে সরকারের প্রতি মাসে অনেক টাকার ক্ষতি হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও বিদ্যুত্ বিভাগের কিছু কর্মকর্তা এসব অবৈধ সংযোগের জন্য মাসোহারা পান এমন অভিযোগের ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, কোন কর্মকর্তা এ বিষয়ে জড়িত নন। তার জানা মতে শহরে কোন অবৈধ সংযোগ নেই। কোন ব্যক্তি যদি অবৈধ সংযোগ স্থাপন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।